আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে এখনও বিভ্রান্তি অনেকটাই কেটেছে। সাধারণ মানুষের সাড়াও মিলছে ভালো। নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে তা হল নতুন আবেদনকারীরা নাকি এই ফর্ম ফিলাপ করতে পারবেন না। তাঁদের জন্য আলাদা করে ফর্ম আনা হবে। দ্বিতীয়ত বাড়ির একজন মহিলাই নাকি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। ফর্মে সব তথ্য দিতে না পারলে আপনি টাকা পাবেন না , এও শোনা যাচ্ছে। এই ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন নারী ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আজ এই ভিডিওতে আপনাদের ফর্ম নিয়ে নানা জটিলতা দূর করার চেষ্টা করবো।

অন্নপূর্ণা যোজনার ১২ পাতার ফর্ম নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই। এক এক করে ফর্ম সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। সেই কারণে নানা সময় বার্তা দিচ্ছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েও অন্নপূর্ণা যোজনা সংক্রান্ত বড় আপডেট দিয়েছেন তিনি। এখনও পর্যন্ত ২৮ লক্ষের বেশি অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে বলে সূত্রের খবর। তাই ফর্মের সরলীকরণেরও চেষ্টা চলছে বলে জানা গিয়েছে। উত্তরকন্যায় সাংবাদিক বৈঠকে অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, এই প্রকল্পে এক পরিবার এক ফর্ম নীতি চালু হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের ৩০০০ টাকা পেতে গেলে একই পরিবারের মহিলা সদস্যদের আলাদা আলাদা ফর্ম ফিলআপ করতে হবে না। একটি ফর্ম ফিলআপ করলেই হবে। অর্থাৎ এক বাড়ি বা এক পরিবার এক ফর্ম নীতি নিয়েছে নবান্ন। এক একটা পরিবারে একটা করেই ফর্ম যাবে। কারণ ফর্মে পরিবারের সকল সদস্যের তথ্য নেওয়া হচ্ছে তাই এক ফর্ম থেকে মিলবে সুবিধা।
এবার আসি দ্বিতীয় বিতর্কে অনেকেই বলছেন নতুন আবেদনকারীরা নাকি এই ফর্ম ফিলাপ করতে পারবেন না। নতুনদের জন্য নাকি আলাদা ফর্ম। আপনাদের জানিয়ে রাখি এই নিয়ে সরকারি কোনও নির্দেশ নেই। অন্নপূর্ণা যোজনায় সুবিধা পেতে গেলে আপনাকে ফর্ম ফিলাপ করতেই হবে। সে আপনি নতুন বা পুরনো আবেদনকারী হোন না কেন। এবার আসি তৃতীয় বিতর্কে, ফর্মে দেওয়া বিভিন্ন কলামে নানা তথ্য চাওয়া হয়েছে। যা অনেকেই দিতে পারছেন না। সে নিয়েও বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছেন তিনি, মন্ত্রী জানান,১২ পাতার ফর্ম সব ডেটার জন্য ফর্ম ফিল-আপ না করতে পারলে যে আপনি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন না, তা কিন্তু নয়। কারণ আগামীদিনে সরকার এইরকম আরও প্রকল্প নিয়ে আসছে, সেই জন্য এই ডেটা দরকার। তিনি আরও বলেন, ‘যতটা সম্ভব ফিল-আপ করুন, বাকিটা আমরা দেখে নেব। তবে এতকিছুর পরেও কিন্তু সরকারি সূত্রে খবর প্রকল্পে স্বচ্ছতা আনতে ডেটা ভেরিফিকেশন হবে। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, ডেটা ভেরিফিকেশনে জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেছেন, ফর্মে দেওয়া সমস্ত ডেটা পরীক্ষার পরেই দেওয়া হবে প্রকল্পের টাকা। এটাও আপনাদের জানিয়ে রাখি ভুল তথ্য দিলে কিন্তু ফর্ম বাতিল হতে পারে। ৫,৬ আর ৭ নম্বর পৃষ্ঠা আয় আর পেশা সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে। ফর্মে আয় সংক্রান্ত তথ্যে ভুল থাকলে সরাসরি বাতিল করা হবে আবেদন। আবেদনকারীরে ব্ল্যাক লিস্টেও করে দেওয়া হতে পারে। আবেদনকারীরে আয়ের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূল। আগে যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন তাদেরও প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। সঠিক ঝাড়াই বাছাইয়ের পর থেকেই আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকবে মাসে মাসে ৩০০০ টাকা। আপাতত তিন মাস ব্যাপী চলবে এই প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ।