কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হল। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং হোটেলে অগ্নিনিরাপত্তার বাধ্যতামূলক নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে সিট। তাঁর দাবি, এই ঘটনা আগের সরকারের অবহেলার ভয়াবহ ছবি সামনে এনেছে।

বুধবার ভোররাতে প্রায় ২টো নাগাদ মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে আগুন লাগে। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে ভবনের বিভিন্ন অংশে। ঘন ধোঁয়ায় বিপাকে পড়েন হোটেলের আবাসিকেরা। দমকল ও পুলিশের দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানে প্রায় ৬০ জনকে নিরাপদে বার করে আনা হয়। তবে শিশুসহ অন্তত ন’জনের মৃত্যু হয়েছে। বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর মুখ্যমন্ত্রী সমাজমাধ্যমে জানান, প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য এখন উদ্ধার ও ত্রাণকাজ, আহতদের চিকিৎসা এবং আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান। ক্ষতিগ্রস্তদের সব রকম সাহায্যের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

পাশাপাশি আগের সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, বছরের পর বছর কলকাতা ও রাজ্যের পরিকাঠামো যথাযথ নজরদারি ছাড়াই বেড়েছে। অগ্নিনিরাপত্তার বাধ্যতামূলক নিয়ম না মেনেই বিভিন্ন ভবনে হোটেল ও ব্যবসা চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি তাঁর। নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শন এবং অনুমোদন যাচাই করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ঘটনায় মৃতদের কয়েক জন বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশন জানিয়েছে, স্থানীয় পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মৃত ন’জনের মধ্যে পাঁচ জন বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চার জন একই পরিবারের সদস্য। আহত ছ’জন বাংলাদেশি নাগরিক প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন।
এখন সিটের তদন্তে মূল নজর থাকবে হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা বিধি আদৌ মানা হয়েছিল কি না, সে দিকে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, তদন্তে সত্য সামনে এনে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।