মাম্পি রায়, সাংবাদিক: আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। ২২ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল-মিশ্রিত পেট্রোলের উপর থেকে আবগারি শুল্ক তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার জারি হওয়া এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ ভারত দীর্ঘ দিন ধরেই বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পথে হাঁটছে। সেই কৌশলের অন্যতম স্তম্ভ ইথানল ব্লেন্ডিং কর্মসূচি। কেন্দ্রের নতুন সিদ্ধান্তে উচ্চমাত্রার ইথানলযুক্ত জ্বালানি উৎপাদন ও বিপণনে উৎসাহ বাড়বে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
আবগারি শুল্ক এমন একটি কর, যা সরকার নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের উপর আরোপ করে। জ্বালানি পণ্যও তার আওতায় পড়ে। ফলে ২২ থেকে ৩০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলকে এই করের বাইরে রাখার ফলে সংশ্লিষ্ট জ্বালানির উৎপাদন ও সরবরাহ আরও লাভজনক হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে তেল বিপণন সংস্থা ও জ্বালানি উৎপাদকরা বাজারে উচ্চ ইথানলযুক্ত পেট্রোল সরবরাহে আরও আগ্রহী হবে।
তবে আপাতত সাধারণ গ্রাহকদের জন্য খুচরো বাজারে বিক্রি হওয়া পেট্রোলের দামে বা ব্যবহারে কোনও তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এই সিদ্ধান্ত দেশে ইথানল-ভিত্তিক জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে ভারতের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের মাধ্যমে পূরণ হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে। সেই কারণেই দেশীয় বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে কেন্দ্র।
ইথানল মূলত আখ, ভুট্টা এবং অন্যান্য কৃষিজ শস্য থেকে উৎপাদিত হয়। ফলে এর চাহিদা বাড়লে কৃষকদের জন্যও নতুন বাজার তৈরি হবে। গত কয়েক বছরে ইথানল ব্লেন্ডিং কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি ও জ্বালানি— উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে কেন্দ্রের দাবি।
সরকার ইতিমধ্যেই পেট্রোলে ইথানল মিশ্রণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। এক দশক আগে যেখানে এই হার ছিল অত্যন্ত কম, বর্তমানে তা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। কেন্দ্রের লক্ষ্য ভবিষ্যতে আরও বেশি ইথানল-ভিত্তিক জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আবগারি শুল্কে এই ছাড় কেবল কর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নয়, বরং ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন আমদানি ব্যয় কমানো সম্ভব হবে, তেমনই পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা যাবে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।