আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : বাংলায় বিজেপির ক্ষমতায়ন। আর বিরোধী আসনে তৃণমূল। ২০৮ টি আসন পেয়ে বিধানসভায় শাসক দল বিজেপি। আর ৮০ আসন পেয়েও বিরোধী আসন টলমল তৃণমূলের। দলের অন্দরে আড়াআড়ি ভাগ। বাংলার রাজনীতিতে হঠাৎ করে শোনা যাবে নব্য তৃণমূল শব্দবন্ধনী। আর যার বিরুদ্ধে তৃণমূলের তরী ডোবানোর অভিযোগ উঠেছে, তিনি হলে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। যাঁকে ইতিমধ্যেই বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। তবে কি সত্যিই তলে তলে তৃণমূলের বিধায়কদের ভাঙাচ্ছেন ঋতব্রত। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দিপন সাহা এই দুই বিধায়কই দল থেকে বহিষ্কৃত। অতএব তৃণমূলের জয়ী বিধায়কদের মধ্যে দুজজন বাদ গেলে সংখ্য়াটা দাঁড়ায় ৭৮। আপাতত এই ৭৮ জন বিধায়কই হচ্ছে তৃণমূলের বিরোধী হিসাবে লড়াইয়ের সঙ্গী। কিন্তু কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে এই ৭৮ জন বিধায়কের মধ্যে কতজনইবা হাতে থাকবে তৃণমূল নেত্রীর। তা নিয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন। এতদিনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেইমান বলে মনে হচ্ছে তৃণমূল সুপ্রিমোর। তাঁকে দলে নেওয়া যে বড় ভুল হয়েছে তা নাকি এখন হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিতর্কের সূত্রপাত সই জালকাণ্ডে। বিধানসভার সই জাল-কাণ্ডে গত সোমবার দুপুরে নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত এবং সন্দীপনই লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন স্পিকারকে। তার ভিত্তিতেই বিধানসভার সচিবালয় হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করে। শুভেন্দু জানান, পুলিশমন্ত্রী হিসাবে তাঁর কাছে বিষয়টি আসার পরেই তিনি সিআইডি-কে তদন্তে যুক্ত করার নির্দেশ দেন। শুভেন্দুর সাংবাদিক বৈঠক শেষ হওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যেই তৃণমূল উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। এই শুরু বহিষ্কারের পর থেকে দলের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্যান্ডোরাবক্স খুলে বসেন ঋতব্রত। একের পর এক অভিযোগ সামনে আনেন তিনি। তৃণমূল নেত্রী যখন ওয়াই চ্যানেলে ধর্না দিয়ে লড়াইয়ের মঞ্চ সাজাচ্ছেন তখন বিধানসভায় দেখা মিলল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তবে তিনিও তলে তলে নব্য তৃণমূলের ভিত তৈরি করতে ব্যস্ত। এরই মাঝে শোনা গেল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাকি ফোন করেছেন পিকে। অবাক কাণ্ড যে পিকের সংস্থা নিয়ে এত আলোচনা তিনি ফোন করছেন তৃণমূল দলের বহিষ্কৃত বিধায়ককে। কী সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বাংলার রাজনীতিতে। ঋতব্রতকে পিকে ফোন করার বর ছড়িয়ে পড়তেই অনেকে নানা মন্তব্য করতে শুরু করেছেন।
ঋতব্রতকে কী বললেন পিকে?
আমি তো সকালবেলা একটি ফোন পেয়ে অবাক হয়ে গেছি
প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে বহুদিন বাদে কথা হল
২০২১ সালে যখন চলে যান কথা হয়নি
তিনি জিজ্ঞাসা করছিলেন, আমি বললাম কী হয়েছে
দিল্লির সাংসদ, সাংবাদিক বন্ধুরা ফোন করেছেন, মেসেজ করেছেন
আমি আর সন্দীপন মনে করেছিলাম হুইসল ব্লোয়ারের কাজ করার
যেটা হচ্ছে গণতন্ত্রের জন্য ভালো নয়
দলের খারাপ সময়ে এভাবে দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় অস্বস্তি বাড়ছে তৃণমূলের অন্দরে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত করছেন। কিন্তু তাঁর লড়াইয়ে কতজনকে সঙ্গে পাবেন তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। কারণ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় অনেক বর্তমান বিধায়ক যোগাযোগ রাখছে তাঁর সঙ্গে। সোমবার রাতে শিউলি সাহাকেও তাঁর সঙ্গে খোশমেজাজে দেখা যায়। দলের অন্দরে যে ঝড় উঠেছে তার পূর্বাভাস মিলল মঙ্গলবার তৃণমূল সুপ্রিমোর ধর্না মঞ্চে। তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা ভিড় জামালেও খুব কম সংখ্যক বিধায়কের দেখা মিলল সেখানে। তবে কি দলের অন্দরে ভাঙন স্পষ্ট হচ্ছে। বিরোধী দলের এই টালমাটাল অবস্থা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
ভোট মিটলেও বাংলার রাজনীতিতে টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়েছে শাসক বনাম বিরোধী শিবিরকে নিয়ে। আগামী ১৮ জুন বিধানসভায় রয়েছে বৈঠক। তার আগে পর্যন্ত বিরোধী দলে যে কী হতে চলেছে তা সন্দেহাতিত। এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন হল কতজন বিধায়ক নিয়ে তৃণমূল বিরোধী আসনে থাকে।