মাম্পি রায়, সাংবাদিক: হরিয়ানার টেনিস খেলোয়াড় রাধিকা যাদব হত্যাকাণ্ডের ৩ মাস পেরিয়েছে। ঘটনায় ফের একটি চার্জশিট জমা করল পুলিশ। দ্বিতীয় চার্জশিটেও রাধিকার বাবা দীপক যাদবকেই মূল অভিযুক্ত হিসাবে চিহ্নিত করেছেন গুরুগ্রাম পুলিশ। ৪২০ পাতার চার্জশিটে বর্ণনা করা হয়েছে কেন রাধিকাকে হত্যা করা হয়েছে।

জেলা আদালতে রাধিকা খুনের চার্জশিট দাখিল করে গুরুগ্রাম পুলিশ। সূত্রের খবর, চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, ইতিমধ্যে ৩৫ জনের বয়ান নথিভুক্ত করা হয়েছে। চার্জশিট অনুযায়ী, আত্মীয় এবং গ্রামবাসীদের কটূক্তির জেরে বিরক্ত হয়েই নিজের মেয়েকে খুন করেছেন দীপক। নিজের সম্মান রক্ষার্থেই রাধিকাকে গুলি করে মেরেছেন তিনি। চার্জশিটে পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল দীপক ও রাধিকার মধ্যে। মূলত রাধিকার টেনিস কোচিং সেন্টারই ছিল সেই বিবাদের কারণ। রাধিকার টেনিসের কোচিং করানোটা মোটেও পছন্দ করতেন না বাবা দীপক। বার বার আপত্তি জানিয়েও লাভ হয়নি। কোচিং করানো বন্ধ করেননি রাধিকা। ওই কাজের জন্য এলাকাবাসীদের নানান কটাক্ষ শুনতে হত দীপককে। আত্মীয় স্বজন, গ্রামবাসীরাও কটাক্ষ করতে শুরু করেন। মেয়ের আয় করা টাকাতেই বসে খান দীপক, এমনই কটাক্ষ করতে থাকেন আত্মীয় পরিজনরা। তার জেরেই গত ১০ জুলাই রাধিকাকে বাড়িতে গুলি করে খুন করেন দীপক। সেক্টর ৫৭-য় রাধিকাদের বাড়িতে ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় এই ঘটনা ঘটে। রাধিকা রান্নাঘরে ছিলেন। অভিযোগ তখনই দীপক তাঁর নামে লাইসেন্স করা বন্দুক দিয়ে পিছন থেকে রাধিকাকে লক্ষ্য করে গুলি চানান। গুলি শব্দ পেয়েই ছুটে আসেন পরিবারের সদস্যরা। তারপরই তাঁরা দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন রাধিকা। পাশেই বসে রয়েছেন দীপক। রাধিকাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে, তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। চার্জশিটে বলা হয়েছে, রাধিকাকে পর পর চারটি গুলি করে হত্যা করেন দীপক।

বুধবার ৪২০ পাতার ওই চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। ক্রমাগত অপমান এবং কটাক্ষ শুনতে শুনতে কীভাবে বিরক্ত হয়ে নিজের মেয়েকে খুন করেছেন দীপক, তার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, ইচ্ছা করেই ৯০দিন সময়সীমার ভিতরে চার্জশিট দাখিল করা হল। যাতে অভিযুক্ত আদালতে নথি পেশ করলে বিলম্বের কারণে প্রক্রিয়াগতভাবে জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। যথাযথ তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তর অভিপ্রায় নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। মেয়ের টাকা বসে খাচ্ছে বাবা, মেয়ের পয়সায় সংসার চলে- আত্মীয় পরিজনদের এহেন ক্রমাগত কটাক্ষ শুনতে শুনতে ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের মেয়েকে খুন করেন দীপক, জানিয়েছেন এক উচ্চপদস্থ তদন্তকারী আধিকারিক।