বিদ্যালয়ের পাঠদানে হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতি নিয়ে ক্রমাগত অপপ্রচার চালিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে ধর্মীয় বিদ্বেষ ও বিভ্রান্তি তৈরির এক গুরুতর অভিযোগ উঠল গুস্তিয়া ক্ষেত্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ে। এই ধরণের প্রবণতা সমাজে সাম্প্রদায়িক অসন্তোষ ও অসংহতি তৈরি করতে পারে—এই আশঙ্কা প্রকাশ করে সোচ্চার হয়েছে ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’।

সংগঠনের প্রতিনিধি সুজন মিস্ত্রি অভিযোগ করেন, স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক সুপরিকল্পিতভাবে ইতিহাস ও সনাতন ধর্ম সংস্কৃতি সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের সামনে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছেন। সমুদ্রমন্থন থেকে শুরু করে দুর্গাপূজার মতো সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে নানা ভ্রান্ত ধারণা ছোটবেলা থেকেই তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে ধর্মের প্রতি অবিশ্বাস এবং বিদ্বেষ তৈরি করার এই অপচেষ্টাকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে আখ্যা দিয়েছে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। অভিযোগ প্রমানিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানান তারা।
এর পাশাপাশি, বিদ্যালয়ে প্রচলিত নিয়মবহির্ভূত টিফিনের সময়সূচি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে সমস্ত বিদ্যালয়ে টিফিনের সময় নির্দিষ্ট থাকলেও, কেন প্রতি শুক্রবার সময় পরিবর্তন করে বিশেষ টিফিনের সময় দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রতিনিধি দল প্রতিবাদ জানায়।
এই অনভিপ্রেত ঘটনা প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুব্রত ঘোষ জানান, “শিক্ষকদের বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মকে বিকৃত বা বাজেভাবে প্রচারের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এটি সমাজে সাম্প্রদায়িক অসন্তোষ তৈরির মতো বিপজ্জনক। এ জাতীয় মানসিকতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সাথে কথা বলব এবং তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শুক্রবার টিফিন দেওয়ার নিয়মটি প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক বলেন, এটি দীর্ঘদিনের পুরনো স্থানীয় একটি ব্যবস্থার অংশ, তবে সমস্ত বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে একই নিয়ম (ইউনিফর্মিটি) থাকা জরুরি বলে তিনিও একমত প্রকাশ করেন। এ ছাড়া, যেসব শিক্ষার্থী ও অভিভাবক বিষয়টির প্রতিবাদ করেছেন, তাদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ বিঘ্নিত হবে না বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।
বিদ্যালয় হলো শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ ও মানসিক বিকাশ ঘটানোর পবিত্র স্থান। সেখানে ধর্মানুভূতির প্রতি আঘাত হানার মতো অপপ্রচার এবং সাম্প্রদায়িক অসন্তোষ তৈরির চেষ্টা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে দ্রুত কোনো সমাধান না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও, প্রধান শিক্ষকের ইতিবাচক ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি একটি আশার আলো দেখায়। আশা করা যাচ্ছে, উপযুক্ত তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।