নাজিয়া রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধি : রাজ্যজুড়ে চলছে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ। ইতিমধ্যেই এনুমারেশন ফর্ম হাতে পেয়েছেন রাজ্যের বেশিরভাগ মানুষ। এই ফর্ম বিলি ও তোলার কাজ দেওয়া হয়েছে বিএলও অর্থাৎ বুথ লেভেল আধিকারিকদের । অর্থাৎ ভোটার তালিকা সংশোধনের গুরু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএলও -দের উপর। এই কাজ করতে গিয়েই নাওয়া খাওয়া প্রায় বন্ধ বিএলও-দের। তারউপর নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে আরও বাড়তি কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএলও দের উপর। বিএলও-দের উপর ডেটা এন্ট্রির কাজটিও নতুন করে চাপিয়ে দেওয়া হশেছে। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ বিএলও-রা।

সকাল থেকে রাত হয়ে যাচ্ছে এনুমারেশন ফর্ম বিলি ও নিতে তার উপর কেন ডেটা এন্ট্রির কাজ কেন নতুন করে দেওয়া হল? এই নিয়ে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ প্রায় সব জেলাতেই বিদ্রোহ দেখাচ্ছেন বিএলও-রা। সোমবার সিইও দপ্তরের সামনে বিক্ষোভে দেখান বুথ লেভেল আধিকারিকদের একাংশ। বিএলও দের এই বিক্ষোভে এদিন সিইও দপ্তরের সামনে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এদিন শিক্ষা অনুরাগী ঐক্যমঞ্চের বিএলও শাখার তরফে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। সিইও দফতরের সামনে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান তারা এবং বিক্ষোভ শেষে সিইও দপ্তরে ডেপুটেশন জমা দেন বিএলও–রা।
শুধুমাত্র সিইও দফতর নয় সোমবার আলিপুর ডিএম অফিসে একদল বিএলও অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ কাজের ভার কমাতে একটি ডেপুটেশন দেন। বিএলও দের বক্তব্য, ট্রেনিং এর সময় তাঁদের শুধুমাত্র এনুমারেশন ফর্ম বিলি ও তোলার কাজ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তুু ক্রমশই সেই কাজের পরিমান বেড়ে চলেছে। নতুন করে ডেটা এন্ট্রির কাজটিও বিএলও দের করতে বলা হশেছে। যা অসম্ভব বলে বক্তব্য বিএলওদের। ডেটা এন্ট্রির জন্য আলাদা করে একজন অপারেটর দেওয়া হোক। নইলে সময়ে কাজ সম্পন্ম করা খুব কঠিন হবে বলে বক্তব্য তাদের।
প্রসঙ্গত, এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন এতদিন বিএলও-দের প্রধান কাজ ছিল, ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ, ফর্ম পূরণে সহায়তা করা ও ফের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই ফর্ম সংগ্রহ করা। কিন্তু বর্তমানে নতুন করে বিএলও–দের আরও একটি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যা হল ডেটা এন্ট্রি। এতে ভোটারদের গণনা ফর্মের তথ্য বিএলও অ্যাপে ডিজিটালি আপলোড করতে হবে বিএলও-দের। এই বাড়তি ডেটা এন্ট্রির কাজ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন বিএলও–দের একাংশ। এই নিয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন বিএলও-রা।

বিএলও-দের বক্তব্য, ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর–এর ফর্ম জমা দেওয়ার সময়সীমা খুবই কম। সেই সময়সীমা বাড়িয়ে উল্টে আরও কাজ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত কাজের চাপে বহু বিএলও শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। সেই কারণে ডেটা এন্ট্রির কাজের জন্য আলাদা করে ডেটা এন্ট্রি আধিকারিক নিয়োগ করার দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা।
এদিন শিক্ষা অনুরাগী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী জানিয়েছেন, ” সিইও দপ্তরে বিক্ষোভের পর আমাদের সঙ্গে সাক্ষাতে সিইও মাননীয় মনোজ আগরওয়াল এবং অ্যাডিশনাল সিইও দিব্যেন্দু দাস বাবু জানিয়েছেন, দাবি গুলির যৌক্তিকতা অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু ইলেকশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া দাবি গুলির মান্যতা না দিলে কিছু করার নেই। এই দাবিগুলি গুরুত্ব দিয়ে ইসিআই-এর কাছে আজকেই পাঠানো হবে। ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের জন্য আজই ইসিআইয়ের কাছে আবেদন জানানো হচ্ছে। অন ডিউটি না পেলে সিইও দপ্তর বিষয়টা দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন কথা দিয়েছেন।১২০০ ভোটার যুক্ত বুথে অ্যাসিস্ট্যান্ট বিএলও বাধ্যতামূলক, জেলা ও ব্লকের আধিকারিক মনে করলে ১২০০ ভোটারের কম যুক্ত বুথে বিএল ও-র সঙ্গে অ্যাসিস্ট্যান্ট বি এল দিতে পারবে। এ ব্যাপারে নোটিশ জারি করা হয়েছে।আমাদের দাবি অনুযায়ী, এস আই আর প্রক্রিয়ার সময় বৃদ্ধির দাবি ইসিআই-এর কাছে তুলে ধরা হবে জানিয়েছেন। কিন্তু কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশ না এলে কিছু করার নেই।হতাহতের জন্য কম্পেনসেশনের বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারেও তারা জানিয়েছেন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অবশ্যই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”