বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তপ্ত রাজ্যের রাজনীতি। এবার গঙ্গাসাগরের বামনখালিতে একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় রাতারাতি মন্দিরে পরিণত হওয়াকে কেন্দ্র করে ছড়াল তীব্র চাঞ্চল্য। ৪ঠা জুন ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর, শনিবার হঠাৎই দেখা যায় ওই কার্যালয়ে ধুমধাম করে পুজো চলছে। কার্যালয়টি রূপান্তরিত হয়েছে ‘বড় ঠাকুর’ ও ‘শ্যামা মন্দিরে’।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র কাদা ছোড়াছুড়ি। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অঞ্চল সভাপতি আব্দুল সামির শাহ অভিযোগ করেছেন, ফল প্রকাশের পর বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা জোরপূর্বক তাদের পার্টি অফিসটি দখল করে এবং পরে সেটিকে মন্দিরে পরিণত করে।

ভয়ে তৃণমূলের কোনো কর্মী-সমর্থক সেখানে যেতে পারছিলেন না। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির তরফ থেকে মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলার সদস্য অরুনাভ দাস দাবি করেছেন, নির্বাচনের পর তৃণমূল কর্মীরাই স্বেচ্ছায় বিজেপির হাতে কার্যালয়ের চাবি তুলে দেন। বিজেপি সেটি নিজেরা না রেখে সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেয়। পুজো উদ্যোক্তা ঝন্টু দাস ও স্থানীয় সনাতনীদের দাবি, পাশে দুটি স্কুল থাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরেই এখানে মন্দির চাইছিলেন। কিন্তু তৃণমূলের ভয়ে আগে মুখ খুলতে পারেননি। তৃণমূলের ক্ষমতা কমতেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিজেপির পাল্টা তোপ, বিগত ১৫ বছর ধরে মানুষকে শোষণ করার পর তৃণমূল এখন মিথ্যা সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে।