রণজিত রায়, নিজস্ব সংবাদদাতা : ২০২৬-র বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারপর্বে বিজেপি ইস্যু করেছিল গরু পাচারকে ৷ গেরুয়া শিবিরের নেতা-নেত্রীরা বলেছিলেন, রাজ্যে ক্ষমতায় এলেই তাঁরা বাংলায় গরু পাচার পুরোপুরি বন্ধ করে দেবেন ৷ ক্ষমতায় এসেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বেআইনি গরুর ব্যবসা বন্ধ করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন৷ শুধু ব্যবসা নয়, গোমাংস নিয়েও রয়েছে একাধিক নির্দেশিকা ৷

গরু পাচার রোধে প্রশাসনিক মহলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়। বলা হয় বেআইনি গরু হাট কোনও ভাবেই চলতে দেওয়া যাবে না। ওই হাট গুলোর উপর নজরদারি রাখতে হবে। যাতে কোনও বেআইনি হাট খোলা না থাকে সেদিকে বাড়তি নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পর থেকে বিভিন্ন জায়গা থেকে গরু ভর্তি গাড়ি আটক করা হয়। বন্ধ গরু বিক্রির হাট। এরফলে বিপাকে খাটাল ব্যবসায়ীরা। তাঁদের খাটাল ভর্তি গরু। যে গরু দুধ দিতে পারে না। সেই গরু বিক্রির জন্য আগাম টাকাও নিয়ে নিয়েছেন কেউ কেউ। এবার তাঁদের ভবিষ্যৎ কী ? বাড়ির মহিলাদের গয়না বন্ধক রেখে ব্যবসা করছেন। সেই ব্যবসার উপর হঠাৎ করে অন্ধকার নেমে আসায়, মাথায় হাত খাটাল ব্যবসায়ীদের।
কিছুদিন সময় দিতে পারত সরকার। তার মধ্যে কিছুটা হলেও গুছিয়ে নিতে পারতেন তাঁরা, জানাচ্ছেন খাটাল মালিকরা।
এই প্রসঙ্গে সাঁকরাইল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সোনালী দাস বলেন, বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকা থেকে এই ধরনের সমস্যার কথা উঠে আসছে। আইন তো আইনের পথেই চলবে, সেটাকে মানতেই হবে। তবে হঠাৎ পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় ক্রেতা ও বিক্রেতা দুপক্ষই সমস্যায় পড়েছেন। সরকারের কাছে বিষয়টি নিয়ে আবেদন করবেন বলে জানান তিনি।
সাঁকরাইলের বিডিও ডঃ কামরুল মুনির জানান আইনে যা বলা আছে, তার বাইরে কিছু করা সম্ভব নয়। পুরো প্রক্রিয়াই আইন মেনেই হবে।

জেলায় জেলায় যখন এই ছবি উঠে আসছে তখন রাজ্য সরকারের তরফে জোরকদমে চালু হচ্ছে কেন্দ্র সরকারের গোকুল মিশন। সেইসঙ্গে বেআইনি গোহত্যা এবং বাংলাদেশে গরু পাচার বন্ধে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন দপ্তরে চালু হল বিশেষ হেল্প লাইন নম্বর। নম্বরটি হল-১৯৬২। গত ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রাজ্যে ১৮০ লক্ষ টন দুধ উৎপাদন হয়েছে। এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে গরু ও মহিষের সংখ্যা ১ কোটি ৯৭ লক্ষ। পশু পালনে প্রজনন, দুধ উৎপাদন, দুগ্ধ শিল্পে আয় বৃদ্ধি, পশুর বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণ-সহ গবাদি পশু পালনে চাষিদের যে কোনও সমস্যা ও সমাধানে ওই হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার সল্টলেকের প্রাণীসম্পদ ভবনে রাজ্যের গোশালা কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।