গুজরাতের ভারুচে রাসায়নিক কারখানায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। শুক্রবার গভীর রাতে একটি কারখানার রিয়্যাক্টরে বিস্ফোরণে মৃত্যু হল অন্তত পাঁচ জন শ্রমিকের। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ছ’জন। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূর থেকেও তার শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের পর কারখানা থেকে রাসায়নিক গ্যাস লিক করতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আশপাশের এলাকা। গ্যাসের প্রভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশ কয়েক জন শ্রমিক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা। শুরু হয়েছে দুর্ঘটনার তদন্ত।

পুলিশ ও কারখানা সূত্রে খবর, কারখানায় হাইড্রোজিনেশন প্রক্রিয়া চলাকালীন এই দুর্ঘটনা ঘটে। সেই সময় ১৫ কিলোলিটারের একটি রিয়্যাক্টরে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের অভিঘাতে কারখানার একাংশ ভেঙে পড়ে। রিয়্যাক্টরের ভগ্নাংশ ছিটকে কারখানার বাইরে গিয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের শব্দ বহুদূর পর্যন্ত শোনা যায়। তার পরেই কারখানা থেকে মিথাইল ডাইক্লোরাইড গ্যাস লিক করতে শুরু করে বলে জানা গিয়েছে।
গ্যাস ছড়িয়ে পড়তেই শ্রমিকদের চোখে জ্বালা শুরু হয়। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ভারুচ ও ভদোদরার বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ জনের দেহ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা।
মৃতদের মধ্যে চার জনের পরিচয় জানা গিয়েছে। তাঁদের নাম জয়দীপ প্যাটেল (২৭), অনিকেতকুমার হরিকিশোর (২৪), অর্জুন রামসিংহ (২০), গৌতম তালাভিয়া এবং বৃন্দা তালাভিয়া বলে জানা গিয়েছে। তবে মৃতের সংখ্যা পাঁচ হলেও, দেওয়া নামের তালিকায় পাঁচ জনের পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মৃতদের পরিচয় নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ভরুচের মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট মনীষা মানানি। তাঁর বক্তব্য, কারখানায় হাইড্রোজিনেশন প্রক্রিয়া চলার সময়ই বিস্ফোরণ ঘটে। ঠিক কী কারণে রিয়্যাক্টরে বিস্ফোরণ হল, তা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করা হবে। দুর্ঘটনার জেরে কারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।