বিশ্বজিত নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ পরিণত হওয়ায় উপকূলজুড়ে বাড়ছে দুর্যোগের আশঙ্কা। যদিও এই ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা এ রাজ্যে নেই বলে জানানো হচ্ছে, তবুও এর প্রভাবে উপকূলীয় জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সম্ভাব্য দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে প্রশাসন। বিশেষ করে সুন্দরবনের সাগর ব্লকের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে বিভিন্ন এলাকায় চলছে জোরদার মাইকিং।

ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মৎস্য দপ্তরের নির্দেশ মেনে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া মৎস্যজীবীদের উপকূলে ফিরে আসার বার্তা দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ পাওয়ার পর অনেক মৎস্যজীবীই নিরাপদে উপকূলে ফিরে এসেছেন। সমুদ্রে যাতে নতুন করে কোনও মৎস্যজীবী মাছ ধরতে না যান, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতা মেনে চলার বার্তা দেওয়া হচ্ছে মৎস্যজীবীদের।
অন্যদিকে, সাগর ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের নামিয়ে বিভিন্ন উপকূলবর্তী এলাকায় চলছে সতর্কতামূলক প্রচার। মাইকিংয়ের মাধ্যমে বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটক, পুণ্যার্থী এবং অস্থায়ী দোকানদারদের সচেতন করা হচ্ছে। দুর্যোগের পরিস্থিতি তৈরি হলে যাতে কেউ বিপদের মধ্যে না পড়েন, সেই লক্ষ্যেই প্রশাসনের এই তৎপরতা। বিশেষ করে সমুদ্রের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষজনকে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।
গঙ্গাসাগরের কপিলমুনি আশ্রম চত্বরেও বাড়ানো হয়েছে সতর্কতা। সেখানে থাকা পুণ্যার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় থাকা অস্থায়ী দোকানদারদেরও নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে প্রশাসন। সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের নামতেও নিষেধ করা হচ্ছে। উত্তাল সমুদ্র কিংবা হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে, সেই কারণেই এই আগাম সতর্কতা।
ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাবের কথা মাথায় রেখে সাগর ব্লকের দুর্বল নদীবাঁধগুলিতেও বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। কশতলা গ্রাম-সহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর নদীবাঁধ এলাকায় পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে নদীবাঁধের কোনও অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় কি না, সেদিকেও রাখা হচ্ছে বিশেষ নজর। বাঁধের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সম্ভাব্য বিপদের মোকাবিলায় সতর্ক থাকছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।