মাম্পি রায়, সাংবাদিক : মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনকে ঘিরে বৃহস্পতিবার আরও তীব্র হল রাজনৈতিক সংঘাত। বিজেপি সাংসদ রাহুল সিনহা (Rahul Sinha) সরাসরি এই ঘটনাকে “রাজনৈতিক খুন” বলে দাবি করেন। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তদন্তে তৃণমূলের যোগ মিললে কাউকে ছাড়া হবে না।

বুধবার মধ্যমগ্রামের কাছে গুলিবিদ্ধ হন চন্দ্রনাথ রথ। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিজেপির অভিযোগ, ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাসের জেরেই এই হামলা। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আদালত-পর্যবেক্ষিত সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার মধ্যমগ্রামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল সিনহা বলেন, “এটা নিছক খুন নয়, রাজনৈতিক হত্যা। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। আগে যখন তৃণমূল ক্ষমতায় ছিল, তখন সিবিআই তদন্তে প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ উঠত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। রাজ্য ও কেন্দ্রে বিজেপি সরকার রয়েছে। নতুন প্রশাসনের অধীনে সিবিআই ও সিআইডি তদন্ত শুরু করবে। এই ষড়যন্ত্রে যারা জড়িত, তাদের কাউকেই ছাড়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা হিংসার রাজনীতি করি না। কিন্তু আমাদের কর্মীদের রক্তের প্রতিটি ফোঁটার হিসাব আইনি পথে নেওয়া হবে। তৃণমূলকে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।” একই সঙ্গে ‘অভয়া’ মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, অতীতে বহু তৃণমূল নেতা শাস্তি এড়িয়ে গিয়েছেন, কিন্তু এ বার তা হবে না।
এর আগে শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনাকে “ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত খুন” বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, “দু’-তিন দিন ধরে রেইকি করে হামলার ছক কষা হয়েছিল।” যদিও তিনি বিজেপি কর্মীদের শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছেন এবং তদন্তের উপর আস্থা রাখতে বলেছেন।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসন জিতে প্রথম বার বাংলার ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। সেই আবহে ভোট-পরবর্তী হিংসা ও চন্দ্রনাথ খুনের ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।