মাম্পি রায়, সাংবাদিক : মধ্যপ্রদেশের বার্গি বাঁধে পর্যটকবাহী নৌকোডুবির ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল একটি ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে। দুর্ঘটনার ঠিক আগের মুহূর্তের সেই ফুটেজে স্পষ্ট, কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারায় ওই ক্রুজ এবং ভেঙে পড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার যাবতীয় কাঠামো।

ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, ক্রুজের ভিতরে বসে রয়েছেন যাত্রীরা। আচমকাই নৌকার ভিতরে জল ঢুকতে শুরু করে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই হাসি-আনন্দ বদলে যায় চিৎকার-আতঙ্কে। ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে দুলতে থাকে ক্রুজটি, আর ততক্ষণে ভিতরে জল ভরতে শুরু করেছে। সেই সময়েই তড়িঘড়ি ক্রুজে থাকা লাইফ জ্যাকেট খোলার চেষ্টা করেন কর্মীরা। যদিও নিয়ম অনুযায়ী যাত্রা শুরুর আগেই প্রত্যেক যাত্রীর গায়ে লাইফ জ্যাকেট থাকা বাধ্যতামূলক।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, অন্তত ৪০ জনেরও বেশি পর্যটক ছিলেন ওই ক্রুজে, যদিও টিকিট কাটা হয়েছিল ২৯ জনের নামে। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে, তাও আবার খারাপ আবহাওয়ার সতর্কতা সত্ত্বেও, ক্রুজটিকে জলে নামানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। আবহাওয়া দফতর আগেই কমলা সতর্কতা জারি করে জানিয়েছিল, ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে।
এই নৌকোডুবির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন চার জন, যাঁদের মধ্যে তিন জনই শিশু। প্রবল বৃষ্টির জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় উদ্ধারকাজ বন্ধ রাখতে হয়। শনিবার ভোরে ফের উদ্ধারকাজ শুরু হওয়ার কথা।
বেঁচে ফেরা যাত্রীদের অভিজ্ঞতা আরও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ৭২ বছরের রিয়াজ হুসেন প্রায় চার ঘণ্টা জলে ভেসে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর দাবি, নৌকাটি হেলে পড়ার পর প্রায় আধঘণ্টা ধরে যাত্রীরা দিশেহারা হয়ে ছুটোছুটি করলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। আরেক যাত্রী প্রদীপ ম্যাসির অভিযোগ, তাঁদের শুধু বসে থাকতে বলা হয়েছিল, কোনও নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেওয়া হয়নি। পরে একটি টিউব পেয়ে তিনি কোনওক্রমে প্রাণে বাঁচেন। তীরে থাকা স্থানীয় মানুষজন দড়ি ছুড়ে দিয়ে বহুজনকে উদ্ধার করেন।
অভিযোগ উঠেছে, বিপদের বার্তা পাওয়ার পরও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দেরি করে। প্রথম দল রওনা দিতে দেরি করে, এমনকি তাদের গাড়িও নাকি মাঝপথে বিকল হয়ে যায়। ফলে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়, যার ফলে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার পরই কড়া পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব রাজ্যজুড়ে সমস্ত ক্রুজ, মোটরবোট ও জলক্রীড়া পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন ও গাফিলতির দায় কার, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।