স্বাগতা চন্দ্র সাহা, সাংবাদিক : সিনেমার চিত্রনাট্যের পুষ্পা ঝোঁকেনি। কিন্তু ফলতার পুষ্পা ভেঙে খান খান। ভোটের কয়েকঘন্টা আগে কেন ভোলবদল করলেন ফলতার জাহাঙ্গির খান। কার নির্দেশে। তবে কি দলের ভেতরেই তৈরি হয়েছে কোনও ব্লুপ্রিন্ট। নাকি ডায়মন্ড হারবার মডেলের হোতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই কি মাথা নিচু করতে হল পুষ্পাকে। নাকি তাঁর কাছেও রয়েছে বিশাল প্যাকেজের অফার। নিজেকে বাঘ বলা জাহাঙ্গির কেন ভোটের কয়েক ঘন্টা আগে কেম ময়দান ছাড়লেন। জাহাঙ্গিরকে নিয়ে তৃণমূল শিবিরে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। জাহাঙ্গিরের পিছু হটার পিছনের রহস্য উন্মোচন হোক বলে দাবি তৃণমূল নেতাদের একাংশের। ফলতায় জাহাঙ্গিরকে নিয়ে যে ক্ষোভের আগুন জ্বলেছে তার আঁচ থেকে বাঁচতে পারবেন তো জাহাঙ্গির। প্রার্থী না হোক ভোটার হিসাবে ভোটের লাইনে দাঁড়াবেন তো পুষ্পা।

সিপিএম থেকে তৃণমূল কর্মী। দেওয়াল লিখন থেকে পতাকা বওয়া একসময় এইসবই করতেন ফলতার জাহাঙ্গির। কয়েক বছর পরেই যেন ভাগ্যবদল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহধন্য হয়ে ওঠেন জাহাঙ্গির। তারপর থেকেই তাঁর নাগাল কে নেয়। এতটাই রকেট গতিতে তার উত্থান যে যুব নেতা থেকে একেবারে ভোটের প্রার্থী হয়ে গেলেন জাহাঙ্গির খান। কিন্তু হাতি কাদায় পড়লেও টিকটিকিতেও লাথি মারে। যা হয়েছে জাহাঙ্গির খানের সঙ্গে। তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হতেই জাহাঙ্গিরের দর্পচূর্ণ হয়েছে। জাহাঙ্গিরের দাবি তিনি সোনার ফলতা তৈরি করতে চেয়েছিলেন। ভবিষ্যতেও তাই তিনি চান। তাই নাকি তাঁর এই সিদ্ধান্ত।
জাহাঙ্গির যখন দাবি করছেন তিনি সোনার ফলতা তৈরি করতে চেয়েছেন তখন তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছে ফলতার একাংশ। কীভাবে সে রাজ্যপাট চালাত তার পর্দা ফাঁস হয়েছে।
এ হেন জাহাঙ্গিরকে টাইট দিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতিও আগাম বার্তা দিয়েছিলেন ফলতাবাসীকে। তারপরেও পুষ্পাকেও ডায়লগ দিতে শোনা যায়। পুর্ননির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু একি হল শেষ মুহূর্তে লেজ গুটিয়ে পিছু হটলেন পুষ্পা। যদিও জাহাঙ্গিরের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কোনও নির্দেশ রয়েছে কি না, তা পরিষ্কার নয়। মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিক বৈঠক করে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার কথা ঘোষণা করেন জাহাঙ্গির। বলেন, ফলতার উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্যাকেজের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই জন্য ২১ মে যে পুনর্নির্বাচন আছে, সেই লড়াই থেকে আমি নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলাম। অনেকেই কানাঘুষো বলছেন জাহাঙ্গিরের উপর চাপ বাড়ছিল। একদিকে দল ক্ষমতা হারিয়েছে অন্যদিকে তাঁর বস অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও বেকায়দায়। কে সাপোর্ট দেবে জাহাঙ্গিরকে। জাহাঙ্গিরের ঘোষণার পর থেকেই তার এই পদক্ষেপের পেছনের সম্ভাব্য কারণগুলো নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। জাহাঙ্গির সরে যেতেই ফলতায় এবার ত্রিমুখী লড়াই। এটা কোনো গোপন বিষয় নয় যে জাহাঙ্গীর অভিষেকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে যেভাবে খেলা ঘুরছিল তাতে করে পুর্নির্বাচনে তার হার সুনিশ্চিত হচ্ছিল। তাই এই হার হলে অভিষেকের ডায়মন্ড হারবার মডেল ধাক্কা খেত। যা লোকসভা নির্বাচনের জন্য ভালো হবে না এবং তাঁর ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকের মত, টিএমসি নীরবে জাহাঙ্গিরকে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য বার্তা দিতে পারে। যার ইঙ্গিত মিলেছে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ নেতা ঋজু দত্তের বক্তব্যে।
মনোনয়ন প্রত্যাহারের তারিখ পেরিয়ে গিয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও ইভিএমে জাহাঙ্গিরের নামেই বোতাম থাকবে। জাহাঙ্গিরের উপর যে চাপ বাড়ছিল তা বোঝা গিয়েছিল গত সোমবার। আগাম রক্ষাকবচ পেতে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন জাহাঙ্গির। গ্রেফতারি এড়াতে আদালতের কাছ থেকে রক্ষাকবচ নেন। মঙ্গলবার ভোটপ্রচারের শেষ দিনে পুষ্পা ওরফে জাহাঙ্গির জানালেন তিনি আর এই ভোটের লড়াইয়ে নেই! অর্থাৎ, ঝুঁকেগা নহি বলে নিজেকে বাঘ বলা পুষ্পা ঝুঁকে গেলেন। তবে কি ভিতরে ভিতরে অন্য সেটিং।