এসআইআর নিয়ে দেশজুড়ে বিরোধীদের আন্দোলনের মধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিরাপত্তায় বাড়তি তৎপরতা। তাঁর ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা বলয়ে অতিরিক্ত রিজ়ার্ভ কর্মী মোতায়েন করেছে সিআইএসএফ। তবে তাঁর নিরাপত্তার বর্তমান স্তর বদলানো হয়নি বলেই জানিয়েছে সরকারি সূত্র।

সিআইএসএফ সূত্রে খবর, দিল্লির নিউ মোতি বাগ কলোনিতে জ্ঞানেশের বাসভবন, নির্বাচন কমিশনের দফতর এবং তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত রিজ়ার্ভ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার, ৭ অক্টোবর থেকেই এই বাড়তি বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ কার্যকর হয়েছে। পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করে রিজ়ার্ভ বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
জ্ঞানেশ কুমার ইতিমধ্যেই ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা পান। দেশে ভিভিআইপিদের জন্য এটি অন্যতম সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এর উপরে রয়েছে শুধু স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (এসপিজি)-এর নিরাপত্তা, যা প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর নিকট পরিবারের জন্য নির্ধারিত।
সরকারি আধিকারিকেরা স্পষ্ট করেছেন, সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে জ্ঞানেশের নিরাপত্তা স্তর ‘আপগ্রেড’ হিসাবে দেখা হচ্ছে না। তাঁর ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা আগের মতোই রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবহার করার জন্য যে অতিরিক্ত বাহিনী সংরক্ষিত থাকে, আপাতত সেই রিজ়ার্ভ থেকেই আরও কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। অর্থাৎ, বর্তমান নিরাপত্তা-ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করার জন্যই এই পদক্ষেপ।
এই বাড়তি নিরাপত্তা মোতায়েনের নেপথ্যে রয়েছে এসআইআর নিয়ে চলা রাজনৈতিক উত্তেজনা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং তাঁকে সরানোর দাবিতে দেশ জুড়ে আন্দোলনে নেমেছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট।
রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরার নেতৃত্বে কংগ্রেসের পাশাপাশি সমাজবাদী পার্টি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারাও বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারচুপি এবং কমিশন সরকারের ‘হাতের পুতুল’-এর মতো কাজ করছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশন।
এই রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেই জ্ঞানেশ কুমারের নিরাপত্তায় বাড়তি বাহিনী মোতায়েনকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবেই দেখছে প্রশাসন।