দু’দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় বার বৈঠকে বসল ‘ইন্ডিয়া’ জোট। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করতেই বৃহস্পতিবার দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গের আয়োজনে মধ্যাহ্নভোজের বৈঠকে জড়ো হন বিরোধী সাংসদরা। বৈঠক শেষে রাজঘাটে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বৈঠকের আগে রেস্তরাঁর বাইরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। কংগ্রেস সাংসদ কোডিকুন্নিল সুরেশ জানান, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন থেকে পিছিয়ে আসার প্রশ্নই নেই। তাঁর কথায়, “আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি না।” বৈঠকের পরবর্তী কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, খাড়গে, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা-সহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতাদের।
সুরেশের বক্তব্য, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে কেন্দ্রীয় সরকারকেই তাঁকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরাতে হবে। বুধবারের বিক্ষোভে পুলিশি পদক্ষেপ এবং রাহুল-সহ বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর নিয়েও সরব হন কংগ্রেস নেতারা।
কংগ্রেস সাংসদ প্রমোদ তিওয়ারির অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ করতে যাওয়া বিরোধী নেতাদের সঙ্গে ‘বর্বর’ আচরণ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, “দেশের সংবিধানকে আমরা এ ভাবে কেড়ে নিতে দেব না।” আর এক সাংসদ মানিকম ঠাকুরের অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমারকে ‘রক্ষা’ করছে বিজেপি সরকার। তাঁর দাবি, বিষয়টি শুধু মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদে থাকা কোনও ব্যক্তিকে নিয়ে নয়, গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ঘিরে।
ইমরান মাসুদের অভিযোগ, এসআইআর-এর নামে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যত দিন না তাঁদের নাম পুনর্বহাল হচ্ছে, তত দিন আন্দোলন চলবে বলেও জানান তিনি।
বুধবারও ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকের পর জ্ঞানেশ কুমার এবং এসআইআর-এর বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরের উদ্দেশে মিছিলের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু দিল্লি পুলিশ মিছিল আটকে দেয় এবং রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক নেতাকে আটক করে।
বৃহস্পতিবার পুলিশ জানিয়েছে, বুধবারের বিক্ষোভ ঘিরে এখনও পর্যন্ত তিনটি এফআইআর হয়েছে। পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা, ধাক্কাধাক্কি, মারধর এবং দুর্ব্যবহারের মতো অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। সেই এফআইআরে রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর নামও রয়েছে।