বিশ্বজিৎ দেবনাথ, নিজস্ব প্রতিনিধি: এবার থেকে টোটো গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। সময়মতো রেজিস্ট্রেশন না করালে আর রাস্তায় নামতে পারবেন না টোটো চালকরা। নির্দেশিকা জারি করে রাজ্য পরিবহণ দফতর। তাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

যত দিন যাচ্ছে, রাস্তায় ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে টোটোর সংখ্যা। এবার টোটো নিয়ন্ত্রণ করতে রাজ্যের পরিবহণ দফতরের নয়া উদ্যোগ। বাস অটো ট্যাক্সির মতো বাধ্যতামূলক টোটোর রেজিস্ট্রেশনও। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন করাতে না পারলে, আর রাস্তায় নামতে পারবে না টোটো চালকরা। এমনই নির্দেশিকা জারি করেছেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। সম্প্রতি নদিয়া জেলার গ্রাম বাংলা সহ শহরতলিতে যত দিন যাচ্ছে ততই বাড়ছে টোটোর দৌরাত্ম্য। যার কারণে যান চলাচল পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি সময়ে মানুষ তাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারছেন না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে টোটো গাড়ির অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে টোটোকে পরিবহণের আওতায় আনতে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে নয়া উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। টোটো গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রথমে আবেদন করতে হবে। যার খরচ মাত্র ১,০০০ টাকা। রেজিস্ট্রেশন করালে টোটো চালকদের বা মালিকদের একটি অস্থায়ী এনরোলমেন্ট নম্বর দেওয়া হবে। তা লাগিয়ে দেওয়া হবে নম্বর প্লেটে। এছাড়াও দেওয়া হবে কিউআর কোড। যে সমস্ত টোটো চালক এবং মালিকরা টোটো গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করবেন না, তাঁরা অনেকটাই অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারেন। পড়তে পারে আইনি জটিলতায়। যদিও রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে নদিয়া জেলা তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি সনৎ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, আগামী দিনে টোটো চালকদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র একবারের জন্য ১,০০০ টাকার বিনিময়ে প্রত্যেকটি টোটো চালক রেজিস্ট্রেশন পাবেন। আগামীদিনে তাদের নিয়ে আসা হবে বিমার আওতায়। প্রত্যেক টোটো চালকদের সুরক্ষার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। যদিও পরিবহণ দফরের এই উদ্যোগ সম্পর্কে জেলা বিজেপি নেতা সোমনাথ করের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে এক হাজার টাকা লক্ষ্মীর ভান্ডার দিচ্ছেন সেটাকেই ঘুর পথে ঘুরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা মাত্র। সত্যি যদি টোটো গাড়ির রেজিস্ট্রেশন হয়, তাহলে তো খুব ভালো কথা। আর যদি সেটা না হয়, এর পেছনে চক্রান্ত থাকে সেটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।
টোটো চালকদের দাবি, টোটো চালিয়ে অল্প রোজগারের মধ্যে দিয়ে সংসার চালাতে হয় তাদের। রেজিস্ট্রেশন এর ক্ষেত্রে যদি ছাড়পত্র দেয়া হয় তাহলে তারা অনেকটাই উপকৃত হবেন। সারাদিন ৩০০ টাকা রোজগারের মধ্যে দিয়ে কীভাবে রেজিস্ট্রেশনের জন্য এক হাজার টাকা দেবেন সেটাই বুঝে উঠতে পারছেন না তারা। তবে রাজ্যের পরিবহণ দফতরের টোটো গাড়ি নিয়ন্ত্রণের অর্থাৎ রেজিস্ট্রেশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। আইনি আওতায় আসার পর আগামীদিনে টোটোর দৌরাত্ম্য কমে কিনা, সেটাই এখন দেখার।