মাম্পি রায়, সাংবাদিক : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ যেন থামার নাম নেই। যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। এই আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) কড়া হুঁশিয়ারির জবাবে পাল্টা আক্রমণাত্মক সুর শোনা গেল ইরানের সেনাবাহিনীর তরফে। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ আমেরিকা স্থায়ী অপমান ও আত্মসমর্পণের মুখে পড়ছে, ততক্ষণ এই সংঘাত চলবে।

ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক সমন্বয়কারী ইউনিট খাতাম আল আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র (Khatam al-Anbiya Central Headquarters) ইব্রাহিম জোলফাঘারি এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আরও “শক্তিশালী, বিস্তৃত এবং বিধ্বংসী” হামলা চালানো হবে। ট্রাম্পের দাবি—ইরানের সামরিক ক্ষমতা অনেকটাই ক্ষয় হয়ে গিয়েছে। সেকথাও একেবারে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান।
এই বিবৃতি সামনে আসে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরেই। তিনি দাবি করেছিলেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই আমেরিকা ইরানকে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেবে। পাশাপাশি ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন সেনা খুব শীঘ্রই যুদ্ধক্ষেত্রে সব লক্ষ্য পূরণ করবে।
তবে জোলফাঘারির বক্তব্য, “আমাদের সামরিক শক্তি সম্পর্কে আপনাদের গোয়েন্দা তথ্য অসম্পূর্ণ। আমাদের কৌশলগত ক্ষমতা সম্পর্কে আপনারা কিছুই জানেন না।” তাঁর সরাসরি সতর্কবার্তা, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে গিয়েছে—এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বরং দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো এখনও অক্ষতই রয়েছে।
ইরানের আরও দাবি, তাদের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, নির্ভুল ড্রোন, আধুনিক এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্রযুক্তি সম্পূর্ণ সচল রয়েছে। এমনকি যে সব স্থানে হামলা হয়েছে বলে দাবি করছে আমেরিকা, সেগুলিকেও “তুচ্ছ” বলেই দাবি তেহরানের। জোলফাঘারির কথায়, “আমাদের মূল সামরিক উৎপাদন এমন জায়গায় হয়, যেখানে আপনারা পৌঁছতেও পারবেন না।”
অন্যদিকে ট্রাম্প তাঁর ভাষণে দাবি করেন, ইরানের হাতে এখন “খুব কম” মিসাইল লঞ্চার রয়েছে এবং তাদের আক্রমণ চালানোর ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। কিন্তু সেই দাবিকেও নস্যাৎ করে ইরানের বক্তব্য, আমেরিকার এই সম্পূর্ণ মূল্যায়ন ভুল এবং তা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে ইরানের স্পষ্ট বার্তা—এই সংঘাতে তারা পিছিয়ে আসবে না। বরং আমেরিকা ও ইজরায়েলকেই আক্রমণ শুরু করার জন্য দায়ী করে পাল্টা প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যতক্ষণ না আপনারা স্থায়ী অপমান, অনুতাপ এবং আত্মসমর্পণের মুখোমুখি হচ্ছেন, ততক্ষণ এই যুদ্ধ চলবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই পক্ষের এই ক্রমবর্ধমান বাকযুদ্ধ এবং পাল্টা সামরিক হুমকি গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘর্ষ যেমন বাড়ছে, তেমনই কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও ক্রমশ কমছে।
সব মিলিয়ে, আমেরিকা ও ইরানের এই সরাসরি সংঘাতে এখন নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আর তার প্রভাব যে শুধুমাত্র দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।