মাম্পি রায়, সাংবাদিক : রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ আরও জটিল আকার নিচ্ছে। এক দিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে তল্লাশি, অন্য দিকে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের ঘনিষ্ঠদের একাধিক ঠিকানায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র অভিযান। এরই মধ্যে দলের অন্দরে বিদ্রোহের সুর আরও জোরালো হয়েছে বলে দাবি করেছেন বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা সন্দীপন সাহা।

বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, দুর্নীতি ও বেআইনি কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত একাধিক মামলার তদন্তে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলি সক্রিয় হয়েছে। শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলকাতার বাসভবনে তল্লাশি চালানো হয়। একই সময়ে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রের সঙ্গে যুক্ত সাতটি জায়গায় ইডি তল্লাশি চালিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ দিকে সম্প্রতি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। অভিযোগ, বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) কর্মসূচির প্রতিবাদে এক সভায় দেওয়া তাঁর বক্তব্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে পারে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষও ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। বিধানসভার বিরোধী দলনেতার ডেপুটি পদে থাকা বহিষ্কৃত নেতা সন্দীপন সাহার দাবি, বিদ্রোহী শিবিরে সমর্থনকারী বিধায়কের সংখ্যা বেড়ে ৬৪ হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘শুরুতে ৫৮ জন ছিলেন। এত জন যে আমাদের সঙ্গে আসবেন, তা ভাবিনি। এখন সংখ্যা ৬৪।’’
অন্য দিকে, সই জালিয়াতি ও ভাষণ সংক্রান্ত মামলায় সিআইডির তলব প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, ১৪ জুন আবার তদন্তকারী সংস্থার সামনে হাজিরা দেবেন। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, তদন্ত সংক্রান্ত তথ্য পরিকল্পিত ভাবে সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করা হচ্ছে। এ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মতপার্থক্য প্রসঙ্গেও সংযত অবস্থান নিয়েছেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এটি ব্যক্তিগত মতভেদ। দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় প্রকাশ্যে আলোচনা করা উচিত নয়।’’
এর মধ্যেই বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ জগদীশ বর্মা বসুনিয়ার দাবি, প্রায় ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ আগামী সোমবার লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে ‘জাতীয় স্বার্থে’ এনডিএ-কে সমর্থনের কথা জানাবেন। সব মিলিয়ে তদন্ত, দুর্নীতির অভিযোগ, দলীয় কোন্দল এবং পাল্টা রাজনৈতিক আক্রমণে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি।