মাম্পি রায়, সাংবাদিক : বিধানসভার দলনেতা নির্বাচনের আগে শুক্রবার কলকাতায় এসেই দক্ষিণেশ্ব কালী মন্দিরে পুজো দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সকালে শহর কলকাতায় পৌঁছেই তিনি দক্ষিণেশ্বরের কালী মন্দিরে পৌঁছন। সেখানে পুজো এবং বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেন। বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর শাহের এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

শুক্রবার বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবেই কলকাতায় আসেন শাহ। দলের বিধায়কদলের নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সূত্রের খবর, বিকেলে বিধায়কদলের বৈঠকের আগে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন তিনি। নতুন সরকার গঠনের রূপরেখা, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান, মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য কাঠামো ও দফতর বণ্টন নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে।
শাহর সফরকে কেন্দ্র করে তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা (Rahul Sinha)। তিনি বলেন, “যাঁরা বলেছিলেন ৪ মে-র পরে অমিত শাহ বা কেন্দ্রীয় কোনও মন্ত্রী বাংলায় ঢুকতে পারবেন না, তাঁদের কথাই আজ ভুল প্রমাণিত হয়েছে। অমিত শাহ আজ কলকাতায় এসেছেন, আর যাঁরা এ সব বলেছিলেন তাঁরা ঘরে বসে রয়েছেন।” একই সঙ্গে তিনি জানান, বিধায়কদলের বৈঠকের পর সন্ধ্যা ছ’টার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর নাম স্পষ্ট হয়ে যাবে।
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের জন্য পর্যবেক্ষক হিসেবে অমিত শাহের নাম ঘোষণা করেছে। সহ-পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন মোহন চরণ মাঝি (Mohan Charan Majhi)। অন্যদিকে অসমে বিজেপি বিধায়কদলের নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেপি নাড্ডাকে (JP Nadda)। সেখানে সহ-পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকছেন নায়াব সিং সাইনি (Nayab Singh Saini)।
এ বারের নির্বাচনে বাংলায় কার্যত ইতিহাস গড়েছে বিজেপি। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৬টি আসনে জয় পেয়েছে পদ্মশিবির। ২০২১ সালে বিজেপির আসন সংখ্যা ছিল ৭৭। অন্য দিকে গতবার ২১২ আসনে জয়ী হওয়া তৃণমূল এ বার থেমে গিয়েছে ৮০ আসনে। ফল ঘোষণার পর থেকেই বাংলায় সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। শুক্রবার শাহের সফর সেই প্রস্তুতিকেই আরও স্পষ্ট করে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।