মাম্পি রায়, সাংবাদিক : “২০২৬- এর নির্বাচনে জিততে পারবে না বলেই তো এসআইআর করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে ভোটে জেতার চেষ্টা করছে।“ –একাধিকবার বিজেপিকে এভাবেই নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে পাল্টা বিজেপির দাবি, যারা অবৈধ অনুপ্রবেশ করেছে, তাদেরকেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া লক্ষ্য তাদের। এবার রাজ্যে এসে সেই অনুপ্রবেশ নিয়েই মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এসে মজবুত প্রশাসন তৈরি হবে, যার ফলে অনুপ্রবেশ রুখে দেওয়া যাবে। মানুষ তো দূর, একটা পাখিও গলতে পারবে না। অনুপ্রবেশ বন্ধের পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারীদেরকেও চিহ্নিত করে বের করা হবে।“

তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অমিত শাহ বলেন, “এই রাজ্যে সরকার নিজেদের ভূমি দিয়ে দিচ্ছে অনুপ্রবেশের জন্য। যা গোটা দেশের পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সরকার ৩৭০ ধারার বিরোধিতা করে, কেন্দ্রের সব নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে।”
অনুপ্রবেশের জন্যও একাধিকবার বিএসএফকে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অমিত শাহর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ব্যর্থ বলে আগেও মন্তব্য করেছেন তিনি। এই ইস্যুতে মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়ী করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “কেন রাজ্য সরকার বর্ডার ফেন্সিং করার জন্য জমি দিচ্ছে না। ভৌগোলিক দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। অনুপ্রবেশকারীরা রাজ্যে প্রবেশ করছে। অসম, ত্রিপুরায় তো অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়েছে। গুজরাত, রাজস্থান, পাঞ্জাবে তো অনুপ্রবেশ হয় না। তবে বাংলায় কেন অনুপ্রবেশ হচ্ছে? এর কারণ হল, আপনার সরকার এটা সমর্থন করে। অনুপ্রবেশ শুধু পশ্চিমবঙ্গের সমস্যা নয়, এটি দেশের সুরক্ষা, সংস্কৃতি বাঁচানোর লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছএ। তাই সীমান্ত বন্ধ করতেই হবে।”
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তৃণমূলের সরকারকে আক্রমণ শানিয়েই হাত গুটিয়ে নেননি অমিত শাহ। আসছে বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসের কথাও বলতে শোনা গেল তাঁকে। শাহ বলেন, “১৫ এপ্রিল ২০২৬-এর পর যখন বিজেপি সরকার গড়বে তখন পশ্চিমবঙ্গের হারানো গৌরব আমরা পুনরুদ্ধার করব। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে আমাদের সরকার তৈরি হবে। একথা বলছি। কারণ এর পিছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে। “
পশ্চিমবঙ্গের সরকার একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালায়। বিজেপি সরকার গড়লে নাকি ওইসব প্রকল্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কার কথা বলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবারের সাংবাদিক বৈঠকে সেবিষয়েও স্পষ্ট করে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, “এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। আমি বলতে চাই, ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার তৈরির পর একটাও স্কিম বন্ধ হবে না। আমদের ঘোষণাপত্রে যা যা স্কিম থাকবে, সেটাও বাস্তব হবে। এটা আমাদের রেকর্ড।”
শাহ আরও বলেন, “তৃণমূলের নেতৃত্বে আজ বাংলার বিকাশ থেমে গেছে। পুরো দেশে বিকাশ হচ্ছে, এই রাজ্যে কাটমানির কারণে বন্ধ সেই বিকাশ। আমাদের সংকল্প ১৫ এপ্রিল ২০২৬-এর পর বিজেপি সরকার গড়লে পশ্চিমবঙ্গের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করব।”
নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে অমিত শাহ বলেন, “এই রাজ্যে নারী নিরাপত্তা নেই। মহিলাদের সন্ধ্যা ৭ টায় ঘরে ঢুকতে বলা হয়। আরজি কর বা সন্দেশ খালি, দুর্গাপুর, কসবা ল কলেজ সহ বহু এমন ঘটনা সামনে আসছে।”
সবশেষে ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হবে এমনই আত্মবিশ্বাস নিয়ে শাহ বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজেপি সরকার গঠন করবে।