মধ্যপ্রদেশ মহিলা এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৬-এর সূচি ঘোষণা করল এশিয়ান হকি ফেডারেশন (AHF)। আগামী ১৯ থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত ভোপালে অনুষ্ঠিত হবে এই প্রতিযোগিতা। নাথু বারখেড়ার ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস কমপ্লেক্সের নতুন হকি স্টেডিয়ামে হবে সমস্ত ম্যাচ। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে মোট ছ’টি দেশ। ভারত ছাড়াও খেলবে জাপান, চিন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং দক্ষিণ কোরিয়া। এশিয়ার সেরা মহিলা হকি দলের খেতাব জেতার লড়াইয়ে নামবে তারা।

ভারতীয় মহিলা হকি দলের কাছে এই প্রতিযোগিতা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, গত মাসে জাপানে এশিয়ান গেমসে ঐতিহাসিক সোনার পদক জয়ের পর এই প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নামবে ভারত। আয়োজক দেশ হিসেবে ভারতই গতবারের চ্যাম্পিয়ন। এর আগে ২০১৬, ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে এই খেতাব জিতেছে ভারত। এবারও চ্যাম্পিয়ন হয়ে টানা তৃতীয়বার ট্রফি জয়ের পাশাপাশি মোট চতুর্থবার খেতাব জেতাই লক্ষ্য থাকবে হরমনপ্রীতদের দেশের মহিলা হকি দলের। প্রতিযোগিতাটি হবে রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে। অর্থাৎ, প্রতিটি দল একবার করে বাকি পাঁচটি দলের বিরুদ্ধে খেলবে। লিগ পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকার প্রথম চারটি দল সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে।
আগামী ১৯ নভেম্বর চিন ও থাইল্যান্ডের ম্যাচ দিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হবে। ওই দিনই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ খেলবে ভারত। এরপর ২১ নভেম্বর দক্ষিণ কোরিয়া, ২২ নভেম্বর থাইল্যান্ড, ২৪ নভেম্বর চিন এবং ২৫ নভেম্বর জাপানের মুখোমুখি হবে ভারত। ২০, ২৩ ও ২৬ নভেম্বর রাখা হয়েছে বিশ্রামের দিন। ২৭ নভেম্বর হবে পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থান নির্ধারণের ম্যাচ এবং দুটি সেমিফাইনাল। ২৮ নভেম্বর তৃতীয় স্থান নির্ধারণের ম্যাচ ও ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রতিযোগিতা। ওই দিনই নির্ধারিত হবে তিন পদকজয়ী দল।
ভারত-সহ ছ’টি শক্তিশালী দলের অংশগ্রহণে এবারের প্রতিযোগিতা ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ের পর নিজেদের সাফল্যের ধারা বজায় রাখাই লক্ষ্য থাকবে ভারতীয় দলের। হকি ইন্ডিয়ার সভাপতি দিলীপ তিরকে জানিয়েছেন, এশিয়ায় মহিলা হকির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও শক্তি তুলে ধরার জন্য এই প্রতিযোগিতা একটি বড় মঞ্চ। ভোপালে ছ’টি শক্তিশালী দলকে স্বাগত জানাতে পেরে তিনি খুশি। পাশাপাশি, এশিয়ান গেমসের সাফল্যের পর ভারতীয় দল নিজেদের খেতাব ধরে রাখতে পারবে বলেও আশাবাদী তিনি।
হকি ইন্ডিয়ার সাধারণ সম্পাদক ভোলা নাথ সিং বলেন, এশিয়ার অন্যতম সেরা মহিলা হকি দলগুলিকে এক জায়গায় নিয়ে আসবে এই প্রতিযোগিতা। এশিয়ান গেমসে ঐতিহাসিক সোনা জয়ের পর ভারতীয় খেলোয়াড়দের কাছে নিজেদের সাফল্যের ধারা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য মধ্যপ্রদেশ সরকারকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে অংশগ্রহণকারী দল, আধিকারিক এবং হকি সমর্থকদের ভোপালে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।