মাম্পি রায়, সাংবাদিক : বিজেপি ক্ষমতায় এলে মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর নানান আক্রমণ, বিধিনিষেধ নেমে আসবে। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন এমন একাধিকবার শোনা গিয়েছে তৎকালীন শাসকদলের নেতানেত্রীদের মুখে। ৪ মে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। সরকার গঠন করে তার মাথায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বসানো হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীকে।

এরইমধ্যে শুক্রবার দুপুরে মধ্য কলকাতার রাজাবাজার ক্রসিং এলাকায় আচমকাই উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ব্যস্ত সময়ে রাস্তাজুড়ে যানজটের মধ্যেই স্থানীয় একাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ রাস্তাতেই জুম্মার নামাজ আদায় করতে শুরু করলে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। নতুন প্রশাসনিক নিয়ম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণার অভাব থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, অফিস টাইমের ঠিক আগে রাজাবাজারের ব্যস্ত রাস্তায় আচমকা বহু মানুষ জড়ো হয়ে নামাজ পড়া শুরু করেন। এর জেরে যান চলাচল কার্যত থমকে যায়। রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়ে একাধিক বাস, ট্যাক্সি ও ব্যক্তিগত গাড়ি। সাধারণ পথচলতি মানুষও সমস্যায় পড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কলকাতা পুলিশ-এর বিশাল বাহিনী। পরিস্থিতি যাতে কোনওভাবেই উত্তপ্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থলে যান পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরও।
পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নামাজে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তবে নতুন প্রশাসনিক বিধিনিষেধ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় তাঁরা রাস্তাতেই প্রার্থনা শুরু করেন। পরে পুলিশ আধিকারিকেরা বিষয়টি বুঝিয়ে বললে তাঁরা সহযোগিতা করেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, রাজাবাজার এমনিতেই অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ ও যানজটপ্রবণ এলাকা। সেখানে ব্যস্ত সময়ে রাস্তায় ধর্মীয় জমায়েত হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। তাঁদের বক্তব্য, ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা প্রার্থনার জন্য বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করা উচিত, যাতে জনজীবন ব্যাহত না হয়।
ঘটনার পর থেকেই গোটা এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ টহল শুরু করেছে যাতে আর কোনও ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা না ছড়ায়। দোকানপাট ও বাজারও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয়দের সচেতন করার উপর জোর দেওয়া হবে।
ঘটনার পর বহু স্থানীয় বাসিন্দাই পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, সময়মতো পুলিশ না পৌঁছলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিতে পারত। যদিও বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে। তবুও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরের নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।