New Delhi, Jul 25 (ANI): Cockroach Janta Party Chief Spokesperson Saurav Das and National Spokesperson Ashutosh Ranka addresses his supporters after the Dharmendra Pradhan resignation, in New Delhi on Saturday. (ANI Photo)
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠা ১৬ মে ২০২৬। তার ঠিক আগের দিন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সেই বিতর্ক থেকেই ব্যঙ্গাত্মকভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় আত্মপ্রকাশ করে আরশোলা সংগঠন। একটি মিম থেকে শুরু। তারপর সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় আর শেষ পর্যন্ত রাস্তায় আন্দোলন।

কয়েক দিনের মধ্যেই দেশের অন্যতম আলোচিত নাগরিক আন্দোলনে পরিণত হয় ককরোচ জনতা পার্টি। নিট আন্দোলনে পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে রাস্তায় নামে সিজেপি। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে এই আন্দোলন। আর নিজেদের প্রথম বড় সাফল্য হিসেবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরেছে সংগঠনটি। শুধু জেন-জিতেই আটকে নেই আরশোলা। যন্তর মন্তরে সিজেপির আন্দোলনে বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের ভিড় চোখে পড়েছিল। নিট আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়া ও বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জ, গ্রেফতার ও এফআইআরের প্রতিবাদ সরব হয় সংগঠনটি। দেশজুড়ে বিপুল জনসমর্থন গড়ে তোলে সিজেপি। আন্দোলনের মূল বার্তা ছিল প্রতিবাদ করার অধিকার গণতন্ত্রের মৌলিক অধিকার। তাই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া চলবে না।
এই আন্দোলনের জেরে বিভিন্ন বিজেপি-শাসিত রাজ্যে নিট আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়া ও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড়, গ্রেফতার এবং মামলা দায়েরের অভিযোগ সামনে আসে। সিজেপির দাবি, কেন্দ্র আগে আশ্বাস দিলেও বাস্তবে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও অসম-সহ একাধিক রাজ্যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ চলছিল। এর প্রতিবাদে সংগঠনটি ফের দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয়। সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতিতে নাটকীয় মোড় আসে। সোমবার গভীর রাতে সিজেপির অন্যতম মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে দাবি করেন, কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁদের প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা, ধৃতদের মুক্তি এবং ভবিষ্যতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান। সৌরভের দাবি, বৈঠকে বিহার ও অসম সরকারের বিজ্ঞপ্তির প্রতিলিপিও তাঁদের দেখানো হয়েছে, যেখানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহার এবং ধৃতদের মুক্তির সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ রয়েছে।
সিজেপির দাবি, শুধু বিহার ও অসম নয়, দেশের সব এনডিএ-শাসিত রাজ্যেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্র আশ্বাস দিয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, আন্দোলনের সময় যাঁদের আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে মুক্তি দেওয়া হবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাও প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে কোনও প্রতিবাদীর বিরুদ্ধে নতুন করে প্রশাসনিক বা পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলেও আশ্বাস মিলেছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। ভিডিও বার্তায় সৌরভ দাস বলেন, কোনও প্রতিবাদীকে আমরা একা ফেলে যাব না। আমরা প্রত্যেকের পাশে আছি এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব। তাঁর এই বক্তব্য সামনে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে সিজেপি। অনেকেই এটিকে আন্দোলনের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে বিহার সরকার ইতিমধ্যেই নিট আন্দোলনে ধৃতদের মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বলে সিজেপির দাবি। পরে অসম সরকারও জানায়, নিট বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অসম পুলিশ বা অন্য কোনও তদন্তকারী সংস্থা নতুন করে আইনি পদক্ষেপ নেবে না এবং ইতিমধ্যেই দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ধৃতদের মুক্তির বিষয়টিও দ্রুত পর্যালোচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ ধরনের কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি।
সিজেপির এই দাবিগুলির বিষয়ে কেন্দ্র বা সংশ্লিষ্ট সব রাজ্যের পক্ষ থেকে একযোগে কোনও আনুষ্ঠানিক সরকারি ঘোষণা এখনও প্রকাশিত হয়নি। ফলে সরকারের আশ্বাস বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার। একটা বিষয় স্পষ্ট যে, আন্দোলনকে শুরুতে অনেকেই শুধুই সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড বা মিম বলে মনে করেছিলেন। সেই আন্দোলনই আজ প্রশাসনের নজর কেড়েছে এবং আলোচনার টেবিলে পৌঁছে গেছে। এখন নজর আগামী কয়েক দিনে। সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, ধৃত আন্দোলনকারীরা সত্যিই মুক্তি পান কি না। মামলা প্রত্যাহার সম্পূর্ণ হয় কি না।