মাম্পি রায়, সাংবাদিক : গুরুতর অভিযোগ ঘিরে ধুন্ধুমার নাসিকের তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টিসিএস বা টাটা কনসাল্টেন্সি সার্ভিসেসে (Tata Consultancy Services)। ধর্মান্তর ও যৌন হেনস্থা অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মী নিদা খান গ্রেফতার হওয়ার পর, গত সপ্তাহেই তাকে সাসপেন্ড করেছে টিসিএস। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা চিঠি অনুযায়ী, ‘গুরুতর অভিযোগ’-এর ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘটনায় জড়িত বলে সন্দেহভাজন অন্যান্য কর্মীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে টিসিএস।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে টিসিএসে যোগ দিয়েছিলেন নিদা খান। সংস্থায় তিনি ‘প্রসেস অ্যাসোসিয়েট’ পদে কর্মরত ছিলেন। গত ৯ এপ্রিলের সাসপেনশন লেটারে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে থাকায় সংস্থার কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই অবিলম্বে তাঁকে বরখাস্ত (suspend) করা হচ্ছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সাসপেনশন বজায় থাকবে।
চিঠিতে আরও জানানো হয়েছে, নিদার টিসিএস নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সংস্থার যাবতীয় সম্পত্তি দ্রুত ফেরত দিতে হবে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত অফিসে যেতে পারবেন না তিনি। বাড়ি থেকে কাজ করার অধিকারও নিদার থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, এই সংক্রান্ত বিষয়ে সংস্থার অন্য কোনও কর্মীর সঙ্গে আলোচনা না করার এবং ‘কঠোর গোপনীয়তা’ বজায় রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় মূল অভিযোগ ওঠে এক কর্মী দানিশ শেখের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বিবাহিত হয়েও তিনি এক সহকর্মীকে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। তদন্তে উঠে এসেছে, নিদা খান তাঁর বোন এবং তিনি অভিযোগকারিণীর ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করেন ও ধর্মান্তরের জন্য চাপসৃষ্টি করেন। পাশাপাশি, দানিশের বিবাহিত হওয়ার তথ্যও গোপন রেখেছেন বলে অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
পুলিশি তদন্ত শুরু হতেই আরও সাত জন মহিলা সামনে এসে মানসিক ও যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগ, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এই ধরনের ঘটনা চলেছে এবং মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগে জানানো হলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ইতিমধ্যে এই মামলায় ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে এক জন এইচআর হেড।
বর্তমানে নিদা খান মুম্বইয়ে রয়েছেন বলে তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। তিনি অন্তঃসত্ত্বা বলেও দাবি করা হয়েছে। নাসিকের একটি আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন তিনি। তাঁর আইনজীবীর দাবি, নিদার বিরুদ্ধে গুরুতর কোনও অভিযোগ নেই এবং তিনি সরাসরি কোনও অপরাধে জড়িত নন।
টিসিএস জানিয়ে দিয়েছে, কর্মক্ষেত্রে হেনস্থার বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে তারা। তদন্তে প্রশাসনকে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে টাটা কনসাল্টেন্সি সার্ভিসেস।