নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও হড়পা বানের জেরে আটকে পড়েছেন অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী প্রতিভা মুখোপাধ্যায়। কাজের সূত্রে তাঁরা ছিলেন পোখরায়। প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়েছে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা। তার জেরে ভেস্তে গিয়েছে শুটিংয়ের পরিকল্পনা, পিছিয়েছে ফেরার বিমানও। তবে আপাতত খরাজ ও তাঁর স্ত্রী দু’জনেই নিরাপদে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁদের ছেলে তমোঘ্ন মুখোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার সকালে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে উদ্বেগে থাকা অনুরাগী ও সংবাদমাধ্যমকে আশ্বস্ত করেন তমোঘ্ন। তিনি জানান, বাবা-মায়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। দু’জনেই বিপন্মুক্ত রয়েছেন।
তমোঘ্ন বলেন, ‘‘বাবা-মা দু’জনেই শুটিংয়ের জন্য নেপালে গিয়েছিলেন। ওঁরা কেমন আছেন, তা জানতে বহু অনুরাগী এবং সংবাদমাধ্যম থেকে ফোন ও মেসেজ পেয়েছি। সবাইকে জানাতে চাই, আমার মা-বাবা নিরাপদে আছেন এবং বিপদের বাইরে।’’
তিনি জানান, খরাজ ও প্রতিভা পোখরায় ছিলেন এবং নেপালে যে এলাকায় মূল বিপর্যয় ঘটেছে, সেটি তাঁদের অবস্থান থেকে বেশ দূরে। কিন্তু বন্যার কারণে শুটিং বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফেরা সম্ভব হয়নি। এমনকি পোখরা থেকে ফেরার বিমানও বাতিল বা পিছিয়ে যায়।
তমোঘ্নর কথায়, ‘‘ওঁদের ২৩ অগস্ট দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু বন্যার কারণে শুটিংয়ে সমস্যা হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ে ফিরতে পারেননি। এখন ওঁরা পোখরা থেকে গোরক্ষপুরের দিকে যাচ্ছেন। সেখান থেকে বিমানে কলকাতায় ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে।’’
নেপালের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে এই খবরে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন খরাজের অনুরাগীরা। নেপালের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও উদ্ধারকাজ চলছে।
বাংলা চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ খরাজ মুখোপাধ্যায় বাংলা ও হিন্দি—দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করছেন। ‘অ্যাক্সিডেন্ট’, ‘মুক্তধারা’, ‘জাতিস্মর’-সহ একাধিক বাংলা ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর স্বতন্ত্র রসবোধ ও সংলাপ বলার ধরনও তাঁকে জনপ্রিয় করেছে। আপাতত খরাজ ও প্রতিভার নিরাপদে দেশে ফেরার অপেক্ষাতেই তাঁদের পরিবার এবং অনুরাগীরা।