Rasuwa [Nepal], Aug 26 (ANI): An aerial view of a mud-laden flash flood following an outburst in the Bhotekoshi River, in Rasuwa akot on Wednesday. (ANI Video Grab)
হিমবাহ বা বরফের স্তর ধস থেকে আচমকা নেমে আসা প্রবল জলোচ্ছ্বাসে কার্যত বিপর্যস্ত নেপাল। ভোটে কোশি নদীতে ভয়াবহ হড়পা বান এবং ধসের জেরে এখনও পর্যন্ত ১৭৫টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। নিখোঁজ বহু স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটক। নেপাল দূতাবাস সূত্রে খবর, ২৮টি দেশের অন্তত ৪৭৬ জন বিদেশি নাগরিকের কোনও সন্ধান এখনও মেলেনি। উদ্ধারকাজ চলছে ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রসুয়া জেলা। সেখানে নেপাল সেনার ৪৪ জন, নেপাল পুলিশের ২৮ জন এবং সশস্ত্র পুলিশের ১৩ জন কর্মীরও খোঁজ মিলছে না। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, মোট ৫৭৯ জন পর্যটক ও স্থানীয় যাত্রী নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে ৪৬৬ জন বিদেশি এবং ১১৩ জন নেপালি। অন্য দিকে, টিমুরে থেকে হেলিকপ্টারে ১২৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে রসুয়াগঢ়ি সীমান্তের উত্তর-পূর্বে লেন্দে খোলায় হিমবাহ বা বরফের শিলা ধসের পর বিপুল পরিমাণ পলি ও জল নেমে আসে। তিব্বতের দিক থেকে সেই স্রোত ভোটে কোশিতে মিশে রসুয়াগঢ়ি, টিমুরে ও স্যাফ্রুবেশি হয়ে ত্রিশূলী নদীতে পৌঁছয়। রসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, গোরখা ও চিতওয়ানেও তার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

বন্যায় ৩৫টি মোটরযান চলাচলের সেতু, ৪৫টি ঝুলন্ত সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাতভর সেনা, পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর কর্মীরা উদ্ধার চালিয়েছেন। সেনা ও বেসরকারি হেলিকপ্টারেও চলছে তল্লাশি ও উদ্ধার। বিভিন্ন হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসার পাশাপাশি সেনা ছাউনিতে অস্থায়ী আশ্রয়, খাবার, পানীয় জল ও ওষুধের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এই বিপর্যয়ে নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারতও। ভারতীয় দূতাবাস ১০ টন ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং সব ধরনের মানবিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, ভারতের মানবিক ত্রাণ ও বিপর্যয় মোকাবিলা (HADR) এবং চিকিৎসা সামগ্রী কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছে।