১০ তারিখের প্রতিবাদ আন্দোলন ব্যর্থ। পুলিশি ধরপাকড়ের জেরে দাঁত ফোটাতে পারেনি ককরোচ জনতা পার্টি। ককরোচদের মনোবল ভাঙতে অভিজিত, সৌরভ, রাঙ্কাদের আটক করে পুলিশ। যদিও রবিবার শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন তাঁরা। ফের কবে প্রতিবাদ আন্দোলনে ঝাঁপাচ্ছে সিজেপি। তারিখ কি ঠিক হল। আর এখানেই ট্যুইস্ট। তারিখ নিয়ে সিজেপি পুলিশের কোর্টে বল ঠেলেছে। পুলিশ যে দিনই সময় ধার্য করবে সেদিনই পথে নামবে ককরোচ জনতা পার্টি। তারিখ পেতে পুলিশকে ২৪ ঘন্টার ডেডলাইন বেঁধে দিল সিজেপি নেতৃত্ব। সিজেপি যখন প্রতিবাদ , বিক্ষোভ করতে নাছোড়বান্দা তখন যন্তন-মন্তরে আর কোনও প্রতিবাদ করা যাবে না বলে নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের।

জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে তপ্ত রাজধানী। ১০ অক্টোবর আন্দলনের ডাক দিয়েও পুলিশে ধরপাকড়ের জেরে আন্দোলন কার্যত ভেস্তে যায়। শনিবার মুম্বই থেকে আসা বিমান ইন্দিরা গান্ধি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতেই আটক করা হয়েছিল সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সহ আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে। বিমান থেকে নামানোর সময় পুলিশ কোনো লিখিত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা কারণ দর্শায়নি বলে চরম অভিযোগ তোলে সিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। বিক্ষোভ রুখতে রাজধানীর সীমানাজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তার কড়াকড়ি জারি করেছিল পুলিশ। বহু দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয় এবং প্রতিবাদীদের দিল্লিতে পৌঁছাতে চরম হেনস্তার মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশি তৎপরতায় আটকে যান আন্দোলনের বহু সমর্থক। ১০ তারিখের আন্দোলন যে রূপ নেওয়ার কথা তা হয়নি তবে কবে হবে সিজেপির পরবর্তী আন্দোলনের তারিখ। তা নিয়ে পুলিশকেই আল্টিমেটাম সিজেপি নেতৃত্বের।
সিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোলা তাঁদের ন্যায়সংগত আন্দোলনকে কৌশলে শাসকদলের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। তবে আইনি ও পুলিশি বাধার মুখেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে অনড় সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব। সোমবার সৌরভ দাসকে সঙ্গে নিয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়েছিলেন রাঙ্কা। সেখানে তারা বিক্ষোভের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণের দাবি জানান। রাঙ্কা বলেন, যন্তর মন্তরেই বিক্ষোভ করবেন তাঁরা। কিন্তু কবে বিক্ষোভ হবে তার তারিখ জানাবে পুলিশ। পুলিশের কোর্টে বল ঠেলেই তাঁদের দাবি, আমরা কোথায় বিক্ষোভ করব? আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশকে জানাতে হবে, কীভাবে আমরা বিক্ষোভ করতে পারি। অন্যথায় আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।
এদিকে পুলিশকে যখন আল্টমেটাম দিয়েছে সিজেপি নেতৃত্ব তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এ কি সিদ্ধান্ত। দিল্লিতে বিক্ষোভ দেখানোর জায়গা থেকে ‘বাদ’ যন্তর মন্তর। যন্তর মন্তরে আর করা যাবে না কোনও বিক্ষোভ-ধর্না, জানাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। বিক্ষোভ, মিছিলের জন্য তিনটি জায়গা নির্ধারণ করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান, সিবিডি ময়দানে করা যাবে বিক্ষোভ।প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ-সমাবেশের জন্য নির্দিষ্ট জায়গার তালিকা থেকে বাদ পড়ল যন্তর মন্তর। তার পরিবর্তে দিল্লিতে তিনটি নতুন স্থানকে বিক্ষোভ-সমাবেশের জন্য নির্দিষ্ট করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, নাগরিকদের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ-সমাবেশ করার অধিকার নিশ্চিত করতে বিকল্প উপযুক্ত স্থান খতিয়ে দেখার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্দিষ্ট স্থান হিসেবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিজেপির আন্দোলনে যখন উত্তাল দিল্লি তখনই কমিটির সিদ্ধান্ত সামনে আসায় প্রশ্ন দানা বেঁধেছে। তবে কি তরুণ তুর্কিদের আন্দোলনের শিকড় শুরুতেই উপরে ফেলতে এই ধরণের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারকে।