সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক : এই রাজ্য আরজিকর দেখেছে এই রাজ্য কসবা ল কলেজে মনোজিতের দাদাগিরিও দেখেছে আবার এই রাজ্যেই এক মহিলার সম্ভ্রম রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট বাপি সেন কিন্তু সেই কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধেই যদি শ্লীলতাহানির মত অভিযোগ ওঠে তখন তা শুনে শিউরে উঠতে হয় বইকি! এ কোন অধপতন? এ কোন সামাজিক অবক্ষয়!

কলকাতা পুলিশের এক অফিসারের (Kolkata Police Officer) বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মত এক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এক তরুণী পরিচারিকা। কসবা এলাকায় ওই পুলিশ অফিসারের বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘটনার পর থেকেই মারাত্মক আতঙ্কে রয়েছেন ওই তরুণী। এমনকি থানায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ জানানোর সাহসও পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ই-মেইল মারফত কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা। নির্যাতিতা ওই তরুণী সোনারপুর থানা এলাকার বাসিন্দা। তিনি একটি আয়া সেন্টারের মাধ্যমে কসবা থানা এলাকার কলকাতা পুলিশের ওই অফিসারের বাড়িতে রান্নার কাজ পান। সেইমতো সেখানে কাজে যেতেন তিনি। আর ওই রান্নার কাজ করতে গিয়েই পুলিশ অফিসারের কুনজরে তিনি পড়েন। ভয়ে মুখ খুলতে পারেননি, তারপরই বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে ওই পুলিশ অফিসার শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ তরুণীর।
তরুণীর বক্তব্য, বাড়ির অন্য সদস্যরা বেরিয়ে যাওয়ার পর, অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার পিছন থেকে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন। তারপর তাঁর সম্মানহানির চেষ্টা করেন। তাকে অশ্লীলভাবে স্পর্শ করেন, জোর করেন, তিনি এর প্রতিবাদ করেন। তখন তাঁকে চুরির অপবাদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জোর করে সাদা কাগজে কিছু লিখিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। কিন্তু নিজের এই অপমান এই হেনস্থা মুখ বুজে মেনে নেননি তিনি, ঘটনার পর স্বাভাবিক ভাবেই চুড়ান্ত ট্রমায় রয়েছেন রয়েছেন আতঙ্কেও কারণ ঘটনার পর ওই অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার তরুণীকে রীতিমতো হুমকি দেন যদি তিনি কাউকে কিছু জানান তাহলে তার ফল ভালো হবে না। তাকে দেখে নেওয়া হবে ইত্যাদি। কিন্তু চূড়ান্ত ট্রমায় থাকলেও থানাতে সশরীরে গিয়ে অভিযোগ না জানাতে পারলেও ই-মেইল মারফৎ কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ করে গোটা বিষয়টা জানান তিনি। ঠিক কি বলছেন তরুণী? ওই তরুণী বলেন, “আমি ঘর ঝাঁট দিচ্ছিলাম। আচমকা উনি পিছন থেকে এসে জড়িয়ে ধরেন। আমার সম্মান নিয়ে টানাটানি করেন। আমার গায়ে নোংরা ভাবে স্পর্শ করেন তখন আমি তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ছিটকে ফেলে দিই। তখন উনি উঠে এসে আমাকে হুমকি দেন, আমাকে দেখে নেবেন। আমি যদি মুখ খুলি তার ফল ভালো হবে না। তারপর উনি ময়লা ফেলার প্লাস্টিকে একটা বিস্কুটের প্যাকেট ও কিছু জিনিস ঢুকিয়ে রাখে। আমাকে চোর অপবাদ দেয়। আমি সেন্টারের দাদাকে ফোন করে ডাকি। সেন্টারের দাদা আসেন। আর উনি লিখিয়ে নেন, আমি আর কোনওদিন চুরি করব না। পরের দিন ওই অফিসারের বৌমা ফোন করে বলেন, আমি নাকি বাড়ি থেকে সোনা-দানা চুরি করে এনেছি।”
একটা মেয়েকে শ্লীলতাহানি করা হল আবার তাকেই নাকি হুমকি দেওয়া হল তাকেই চোরের অপবাদ দেওয়া হল! আবার তাকে লিখতে বাধ্য করা হল যে তিনি আর এরকম কিছু করবেন না, অর্থাৎ ওই অভিযূক্ত পুলিশ অফিসার রীতিমত সাধু সাজার চেষ্টা করেন এমনকি থানাও তো প্রায় নিষ্ক্রিয়ই রইল, এমন এক অভিযোগ পেয়ে কেন তত্ক্ষণাত ওই পুলিশকে ডেকে পাঠানো হল না? কেন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হল না? কেন নিরযাতিতা তরুণির বাড়িতেই পুলিশ এল তাও নাকি চুরির দায়ে? শুধু কি পুলিশ বলেই অভিযুক্তকে এভাবে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে? প্রশ্ন উঠছে।
তরুণী তার অভিযোগপত্রে গোটা বিষয়টাই বিশদে জানিয়েছেন। কিন্তু এখনও পযন্ত কোন পদক্ষেপ ওই অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি বলেই জানা যাচ্ছে। আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে কেন ছাড় দেওয়া হচ্ছে ওই পুলিশকে? জেনেবুঝেই কি? নাকি কসবা থানার পুলিশ মনেই করে না তাদের কোন সহকর্মী এমন কোন কাজ করতে পারেন না বলে? স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় পুলিশি ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই তাঁকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যার জেরে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। খোদ পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা যাদের হাতে, তাদের বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগ ওঠায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযুক্তের শাস্তির দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। কিন্তু শাস্তির দাবি উঠলেই তো আর শাস্তি হবে না, যেখানে এখনও কোন পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি উল্টে ওই মেয়েটির বাড়িতেই পুলিশ আসছে সেখানে শাস্তির দাবি প্রহসনই বটে।