Mandi [Himachal Pradesh], Jul 01 (ANI): Dense clouds hover over Mandi town and the Beas River amid an Orange Alert issued for July 2 and 3. The river is currently flowing at its normal level with no signs of flooding, in Mandi on Wednesday. (ANI Video Grab)
প্রাক্ -বর্ষার প্রবল বৃষ্টি, ভূমিধস এবং দুর্যোগে কার্যত বিপর্যস্ত হিমাচলপ্রদেশ (Himachal Pradesh)। গত ১ মার্চ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মাত্র চার মাসে প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছেন ১২৮ জন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পৌঁছেছে প্রায় ২৯.৮৪ কোটি টাকায়। বুধবার রাজ্যের স্টেট এমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের (এসইওসি) প্রকাশিত রিপোর্টে উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক ছবি।

টানা বৃষ্টির জেরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৪৪টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মান্ডি জেলা, যেখানে ২৮টি রাস্তা যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া শিমলায় ১৭টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে। ফলে পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
শুধু রাস্তা নয়, বিদ্যুৎ পরিষেবাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে। রাজ্যজুড়ে ২৫৪টি ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফর্মার (ডিটিআর) এখনও বিকল অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে শুধু মান্ডিতেই ১৯৮টি ট্রান্সফর্মার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিরমৌর জেলায় বিকল হয়েছে আরও ৪৪টি ট্রান্সফর্মার। তবে এর মধ্যেও স্বস্তির খবর এই যে, এখনও পর্যন্ত পানীয় জলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় কোনও বিঘ্ন ঘটেনি।
রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত ১২৮ জনের মধ্যে ৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে গাছ বা খাড়া পাহাড় থেকে পড়া পাথরের ঘায়ে। এছাড়া ডুবে মারা গিয়েছেন ৩০ জন। জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে বেশি ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে শিমলায়। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চাম্বা, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ২৩ জন। অন্য দিকে লাহুল, স্পিটি জেলায় এই সময়ে কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি উদ্বেগ বাড়িয়েছে সড়ক দুর্ঘটনাও। একই সময়ে রাজ্যে পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ২৭০ জন। শিমলায় ৪৩ এবং চম্বায় ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায়।
দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বাড়িঘরের। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে ৩৫৪টি বাড়ি। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ১,৫৯২টি বাড়ি। আর্থিক ক্ষতির নিরিখে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিমলা জেলা, যেখানে ক্ষতির পরিমাণ ৭.৩৩ কোটি টাকারও বেশি। তার পরেই রয়েছে সোলান ও কুল্লু।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তা পরিষ্কার, ধ্বংসাবশেষ সরানো এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার কাজ চলছে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু আরও সক্রিয় হওয়ায় আগামী কয়েক দিনে ভারী বৃষ্টি এবং নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর। বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।