মাম্পি রায়, সাংবাদিক : নিট দুর্নীতি ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের মাঝেই বাতিল করা হল নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে সামনে রেখে মঙ্গলবার মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) তথাকথিত ‘অমৃতকাল’ দেশের যুবসমাজের জন্য ‘বিষকাল’-এ পরিণত হয়েছে।

সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ রাহুল লেখেন, “নিট ২০২৬ পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। ২২ লক্ষেরও বেশি পড়ুয়ার পরিশ্রম, ত্যাগ এবং স্বপ্নকে ধ্বংস করেছে দুর্নীতিগ্রস্ত বিজেপি সরকার।” তাঁর দাবি, বহু পরিবার সন্তানদের কোচিং করাতে ঋণ নিয়েছে, মায়েরা গয়না বিক্রি করেছেন, পড়ুয়ারা রাত জেগে প্রস্তুতি নিয়েছে। অথচ তার বদলে তারা পেয়েছে প্রশ্নফাঁস, প্রশাসনিক গাফিলতি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সংগঠিত দুর্নীতি। রাহুল গান্ধীর কথায়, “এটা শুধু ব্যর্থতা নয়, যুবসমাজের ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে অপরাধ।”
কংগ্রেস সাংসদ আরও অভিযোগ করেন, বারবার প্রশ্নফাঁস হলেও ‘পেপার মাফিয়া’ পার পেয়ে যাচ্ছে, অথচ শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ পরীক্ষার্থীদের। তাঁর বক্তব্য, “যদি পরিশ্রমের বদলে, টাকা আর যোগাযোগ ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে, তা হলে শিক্ষার মূল্য কোথায়?” নতুন করে পরীক্ষা হওয়ায় পড়ুয়াদের উপর আবারও মানসিক চাপ, আর্থিক বোঝা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হবে বলেও দাবি রাহুলের।
প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগের জেরে মঙ্গলবারই কেন্দ্র ঘোষণা করে, গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা বাতিল করা হচ্ছে। পাশাপাশি গোটা ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সিবিআইকে (Central Bureau of Investigation)। জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (National Testing Agency) (এনটিএ) এক বিবৃতিতে জানায়, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। তাই পরীক্ষাটি বহাল রাখা সম্ভব নয় বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এনটিএ জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের নতুন করে আবেদন করতে হবে না। মে মাসের পরীক্ষার জন্য জমা দেওয়া নথি, কেন্দ্র নির্বাচন এবং রেজিস্ট্রেশন বৈধ থাকবে। অতিরিক্ত কোনও ফি নেওয়া হবে না। ইতিমধ্যেই জমা দেওয়া পরীক্ষার ফি ফেরত দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থা। নতুন পরীক্ষার দিনক্ষণ এবং অ্যাডমিট কার্ড সংক্রান্ত সূচি পরে ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, নিট-ইউজি দেশের এমবিবিএস, বিডিএস-সহ বিভিন্ন স্নাতক স্তরের মেডিক্যাল কোর্সে ভর্তির একমাত্র প্রবেশিকা পরীক্ষা। এ বছরের পরীক্ষায় দেশে ও বিদেশে মিলিয়ে প্রায় ২২.৭৯ লক্ষ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন।