সংসদে বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই কি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল ঘটে যাবে? নাকি বাদল অধিবেশনের পরে ঘটবে রদবদল? গত কয়েক দিন ধরেই সেই নিয়ে জোর চর্চা চলছে। তবে সূত্রের খবর, মন্ত্রিসভায় রদবদলের চেয়ে আপাতত গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করানোর উপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে আলোচনায় বেশ কিছু নাম ঘুরে ফিরে উঠে আসছে।

জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে সংসদে বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে। আগামী ২০ জুলাই থেকে বাদল অধিবেশন শুরু হতে পারে। আর তাই মন্ত্রিসভার রদবদল সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ পিছিয়ে যেতে পারে বলে সূত্রের খবর। বরং গুরুত্বপূর্ণ বিল কী ভাবে সংসদে পাস করিয়ে নেওয়া যায়, এই মুহূর্তে তার উপর জোর দিচ্ছে সরকার। প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করানোর ক্ষেত্রে শাসক দল তো বটেই বিরোধী শিবিরের বিদ্রোহী সাংসদদের কী ভূমিকা থাকে, তা দেখার পরেই মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে এগানো হবে বলে সরকারি সূত্রের দাবি।
সূত্রের খবর, সংসদের আসন্ন অধিবেশনে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস এবং এক দেশ এক ভোট সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করানোর ব্যাপারে বেশি আগ্রহী কেন্দ্রের শাসক দল। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেই মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করার লক্ষ্যে এপ্রিল মাসে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিল পাস করানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল শাসক শিবির। কিন্তু মহিলা সংরক্ষণ আইন সংশোধনের নামে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের কৌশল নিয়েছে সরকার, এই অভিযোগ তুলে বেঁকে বসেন বিরোধীরা। সংসদের দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় পিছু হটতে বাধ্য হয় কেন্দ্রীয় সরকার। এবার যাতে সে রকম পরিস্থিতি তৈরি না হয়, আপাতত তা নিশ্চিত করার সরকারের একমাত্র লক্ষ্য।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, এই সময়ে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হলে যাঁরা মন্ত্রিত্ব থেকে বাদ পড়বেন, তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ জন্মাতে পারে। তার অভিঘাত সংসদে বিল নিয়ে ভোটাভুটিতে পড়তে পারে। বরং যদি মন্ত্রিসভার রদবদলের বিষয়টি পিছিয়ে দেওয়া যায়, তা হলে এই বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে বিলের পক্ষে বেশি সমর্থন জোগাড়ের রাস্তা খোলা থাকবে। মন্ত্রিসভার রদবদল ঘটিয়ে আপাতত কাউকে চটানোর পক্ষপাতী নয় শাসক শিবির। সেই কারণে আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদল পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে, এই দাবির ক্ষেত্রে আরও একটি ফ্যাক্টরের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে সরকারি সূত্রে৷ ১-৩ জুলাই পর্যন্ত জাপানের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী মোদীর রাজস্থান সফরের কর্মসূচি রয়েছে। ৬ থেকে ১১ জুলাই তিনি ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে থাকবেন। এর ফলে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগে হাতে থাকছে কেবল ৫ জুলাইয়ের দিনটি। এমনকী ২০ জুলাইয়ের আগে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করা হলেও, নতুন মন্ত্রীদের হাতে অধিবেশনের প্রস্তুতির জন্য খুবই কম সময় থাকবে। যদিও অধিবেশন শুরুর ঠিক আগেই রদবদলের নজির রয়েছে মোদী জমানায়। ২০২১ সালের ৭ জুলাই মন্ত্রিসভার রদবদল ঘটিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেই সময়ে মন্ত্রিত্ব থেকে সরানো হয়েছিল রবিশঙ্কর প্রসাদ এবং প্রকাশ জাভড়েকরের মতো নেতাদের। তবে এ বারের পরিস্থিতি আলাদা, সে কথাও মেনে নিচ্ছেন বিজেপির শীর্ষ নেতাদের একাংশ। তাঁদের মতে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাচ্ছে আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশের বিষয়টি। তা নজরে রেখেই সব রকম পদক্ষেপ করা হবে।
রাজ্যসভায় মেয়াদ ফুরনোর পর সম্প্রতি মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন জর্জ কুরিয়েন। এতদিন সংখ্যালঘু মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন তিনি। সংসদের দুই কক্ষের একটিও সদস্য না হয়ে মন্ত্রিত্ব রয়েছেন রবনীত সিং। পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই তাঁকে পদে রাখা হয়েছে বলে খবর। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধরীকে সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে বিজেপি-র সভাপতি করা হয়েছে। আর এক প্রতিমন্ত্রী হর্ষ মালহোত্রাকে সভাপতি করা হয়েছে দিল্লি বিজেপি-র। প্রাক্তন আমলাদের মন্ত্রিসভার অন্তর্ভুক্ত করার কথাও শোনা যাচ্ছে। নাম উঠে আসছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর শক্তিকান্ত দাসেরও।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের কার কেমন পারফরম্যান্স, তা নিয়ে মে মাসে জরুরি বৈঠক হয়। বর্তমানে বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের বয়স এখনও ৫০-এর নীচে। মন্ত্রিসভাতেও তুলনামূলক কম বয়সিদের আনা হতে পারে। আবার এমন আটজন মন্ত্রী রয়েছেন, যাঁদের বয়স ৭০-৮০ কোটায়। রাজ্যসভায় হরদীপ সিং পুরী এবং বি এল বর্মার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। ওই জায়গা নতুনদের আনা হতে পারে বলে জল্পনা। ২০২৯ সালে থেকে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের ভাবনা কেন্দ্রের। বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় একমাত্র মহিলা মন্ত্রী নির্মলা সীতারামনই।
ধর্মেন্দ্রর শিক্ষামন্ত্রীর পদ হারানোর পাশাপাশি আরও যেসব নাম ভেসে আসছে তাঁদের মধ্যে রয়েছে নীতীন গড়করির নাম। তাঁকে পরিবহণ মন্ত্রীর পদ থেকে সরানো হতে পারে। পাশাপাশি শোনা যাচ্ছে, আপ থেকে পদ্ম শিবিরে যোগ দেওয়া রাঘব চাড্ডা মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকেও দেওয়া হতে পারে বড় দায়িত্ব। সেই সঙ্গেই অনুরাগ ঠাকুরও নতুন মন্ত্রক পেতে পারে পারেন বলে গুঞ্জন। তবে, বলে রাখা ভালো, এই ধরনের গুঞ্জন সংক্রান্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মোদী সরকারের তরফে এখনও পাওয়া যায়নি। কবে নতুন মন্ত্রিসভা বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তাও এখনও জানা যায়নি।