Kolkata, May 30 (ANI): TMC national general secretary and MP Abhishek Banerjee speaks to the media as CID serves him a notice, at his residence in Kalighat, in Kolkata on Saturday. (ANI Video Grab)
চোখের চিকিৎসার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদেশে যেতে পারবেন না। তাঁকে অনুমতি দিল না কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ জানায়, চিকিৎসার জন্য বৃহস্পতিবার অভিষেককে এসএসকেএম হাসপাতালে যেতে হবে। সেখানকার চক্ষু বিভাগের প্রধান একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করবেন। তিনি অভিষেকের বিদেশযাত্রার প্রয়োজনীয়তা আদৌ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখবেন। কিন্তু অভিষেকের আইনজীবী আদালতে জানিয়ে দেন যে, তাঁর মক্কেল এসএসকেএম-এ যাবেন না। তার পর পুরো মামলাই খারিজ করে দেন বিচারপতি।

বিদেশে গিয়ে চোখের চিকিৎসা করানোর অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আবেদন ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র। বিজেপি এবং তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের অভিযোগ, বিদেশ যাওয়ার অনুমতি পেলে অভিষেক দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন। যদিও এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে তৃণমূল।
অভিষেকের বিদেশে চিকিৎসার আবেদনের শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, তদন্ত চলাকালীন আবেদনকারীকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে আদালত আগ্রহী নয়। প্রথমে এসএসকেএম হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধানের কাছে অভিষেককে দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। সেখানে তাঁর চোখের সমস্যা রাজ্যেই চিকিৎসাযোগ্য কি না, তা-ই নির্ধারণ করার কথা। হাসপাতালের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিল আদালত।
এর পরেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তাঁর যুক্তি, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত মামলার তদন্তে তিনি সহযোগিতা করেছেন। ফলে চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁকে বাধা দেওয়া উচিত নয়। সোমবার শীর্ষ আদালত কলকাতা হাই কোর্টকে এক সপ্তাহের মধ্যে তাঁর আবেদনটি শুনতে বলে। যদিও হাইকোর্ট আবারও সেই একই নির্দেশ দিল।
এই আবহেই অভিষেককে নিয়ে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালের দাবি, চিকিৎসার অজুহাতে বিদেশে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে অভিষেকের। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের সরকারি হাসপাতালেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব। ‘‘দেশের বাইরে পালানোর পরিকল্পনা থাকতে পারে,’’ এমনই অভিযোগ করেন তিনি।
তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের নেতা তথা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই সুরে আক্রমণ করেছেন। তাঁর দাবি, সাংসদদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট রয়েছে। এমন কোনও দেশে অভিষেক গেলে, যার সঙ্গে ভারতের প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই, ভবিষ্যতে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা কঠিন হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্য দিকে, এই অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। দলের নেতা কুণাল ঘোষের বক্তব্য, অভিষেক দীর্ঘদিন ধরেই চোখের সমস্যার জন্য বিদেশে বিশেষ চিকিৎসা করিয়ে আসছেন। নিয়মিত ফলো-আপের জন্যও তাঁকে বিদেশ যেতে হয়। তাঁর কথায়, ‘‘স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করা উচিত। পালাবেন কেন? রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন, তদন্তেও সহযোগিতা করেছেন।’’
২০১৬ সালের অক্টোবরে মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় চোখের নীচে গুরুতর চোট পেয়েছিলেন অভিষেক। তৃণমূলের দাবি, দেশে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বিদেশে তাঁর বিশেষ চিকিৎসা হয়। তার পর থেকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর চিকিৎসা ও পরীক্ষা করাতে বিদেশে যান তিনি।