বিধানসভার নবনির্বাচিত বিধায়কদের জন্য আয়োজিত ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিতে যোগ দিলেও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বক্তৃতা শোনার প্রশ্নে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। শুক্রবার তিনি বলেন, কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকা তাঁর সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব ছিল। কিন্তু কাকে শুনবেন, আর কাকে শুনবেন না, তা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল বলেন, ‘‘এটি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকারের উদ্যোগে আয়োজিত বিধায়কদের ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি। সেখানে উপস্থিত থাকা আমার কর্তব্য ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেও কাকে শুনব, কাকে শুনব না, সেই সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত।’’
এর পরই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে নিশানা করেন তৃণমূল নেতা। তাঁর অভিযোগ, স্পিকারের পদকে সম্মান করলেও ওম বিড়লা নিরপেক্ষ নন। কুণালের কথায়, ‘‘লোকসভার স্পিকারকে আমি সম্মান করি। কিন্তু তিনি নিরপেক্ষ নন।’’

সেখানেই থামেননি তিনি। রাজ্যের বিধানসভার স্পিকারকেও একাধিক বিষয়ে পরোক্ষে বিঁধেছেন কুণাল। তাঁর দাবি, স্পিকারের চেয়ারকে সম্মান করলেও বিরোধী দলনেতা নিয়োগের ক্ষেত্রে নৈতিকতার প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি বিধানসভায় বিরোধী আসন বিন্যাস এমন ভাবে করা হয়েছে, যাতে বিরোধী শিবিরকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কুণালের আরও দাবি, সম্প্রতি বিধানসভার অধিবেশনে তাঁকে বক্তব্য রাখার সুযোগও দেওয়া হয়নি।
অন্য দিকে, এই ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিং। তাঁর মতে, প্রথম বার নির্বাচিত হয়ে আসা বিধায়কদের কাছে এই ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিধানসভার কার্যপ্রণালী, আলোচনায় অংশগ্রহণের নিয়ম, ‘পয়েন্ট অফ অর্ডার’ তোলার পদ্ধতি বা ‘জিরো আওয়ার’-এ বিষয় উত্থাপনের মতো নানা সংসদীয় রীতি-নীতি এই কর্মসূচির মাধ্যমে শেখানো হয়।
অর্জুন বলেন, ‘‘অনেক নতুন বিধায়ক এসেছেন। তাঁদের বিধানসভার কাজকর্ম সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। কী ভাবে বক্তব্য রাখতে হয়, কী ভাবে নিয়ম মেনে বিষয় উত্থাপন করতে হয়, এই কর্মসূচির মাধ্যমে সেই শিক্ষাই দেওয়া হয়। এটি সম্পূর্ণ শেখার প্রক্রিয়া। আমাদের দলও এই বিষয়ে সদস্যদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেয়।’’
ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিকে ঘিরে এক দিকে যখন প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে, অন্য দিকে কুণাল ঘোষের মন্তব্যে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কও উসকে দিল রাজ্য রাজনীতি।