মাম্পি রায়, সাংবাদিক : রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অসন্তোষ ও বিদ্রোহের সুর ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। একাধিক বিধায়কের সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অনুপস্থিতি এবং দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে দুই বিধায়ককে বহিষ্কারের ঘটনার মধ্যেই নতুন করে সামনে এল বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক।
বুধবার তৃণমূলের তথাকথিত বিদ্রোহী শিবিরের কয়েক জন বিধায়ক দাবি করেন, দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে অধিকাংশই তাঁদের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণার বিরোধিতাও প্রকাশ্যে উঠে এসেছে।

তৃণমূল বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘সঠিক সংখ্যা জানি না। বাইরে শুনছি ৫৯টি স্বাক্ষর জমা পড়েছে। আমিও সেখানে স্বাক্ষর করেছি।’’ অন্যদিকে বিধায়ক প্রিয়া পাল বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান না জানিয়ে বলেন, ‘‘বৈঠক শেষে এ বিষয়ে কথা বলব।’’
এরই মধ্যে সোমবার দলবিরোধী কাজের অভিযোগে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে সই জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেন, ‘‘যাঁরা সই জাল করেছেন, তাঁদের কাউকেই ছাড়া হবে না। আইনের পথে পদক্ষেপ করা হবে।’’
শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৯ মে তৃণমূলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বিধানসভার স্পিকারের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্য সচেতক করার প্রস্তাব দেন। পরে ২০ মে ৭০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর-সহ আরও একটি চিঠি জমা পড়ে।
কিন্তু ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা অভিযোগ করেন, বিধায়ক দলের কোনও বৈঠকেই এমন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে স্পিকারের হস্তক্ষেপে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয়। পরে তদন্তভার যায় সিআইডির হাতে।
শুভেন্দুর দাবি, সংশ্লিষ্ট চিঠিতে থাকা বিধায়কদের সইয়ের নমুনা সংগ্রহ শুরু করেছে সিআইডি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘বাহারুল ইসলাম, অরূপ রায় এবং শুভাশিস দাস ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন যে তাঁরা ওই নথিতে স্বাক্ষর করেননি।’’
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাপ্রবাহ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও প্রকট করে তুলেছে। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই দলের অন্দরে যে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত মিলছিল, তা এখন প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।