মাম্পি রায়, সাংবাদিক : রাজ্যসভার আপ সাংসদ রাঘব চাড্ডার বিজেপিতে যোগদান ঘিরে সরগরম রাজনীতি। এই ইস্যুতে এবার সরব সমাজকর্মী আন্না হাজারে। শনিবার মহারাষ্ট্রের আহিল্যানগরে কড়া ভাষায় সমালোচনা করে আন্নার বক্তব্য, ব্যক্তিগত স্বার্থে রাজনৈতিক দল পরিবর্তন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং সংবিধানের চেতনাকেও আঘাত করে।
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাজারে বলেন, “এক দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দেওয়া মোটেও সঠিক নয়। ব্যক্তিগত লাভের জন্য দলবদল করা উচিত নয়। আমাদের সংবিধানই সর্বোচ্চ। সবকিছু সেই নিয়মেই চলা উচিত।” তাঁর মতে, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উচিত সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করা এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১১ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের মুখ ছিলেন হাজারে, যার প্রেক্ষিতেই গড়ে ওঠে আম আদমি পার্টি। যদিও পরে আপের মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশের সিদ্ধান্তে প্রবল আপত্তি জানিয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল আন্নার।
শুক্রবারই রাঘব চাড্ডা সহ একাধিক সাংসদ আম আদমি পার্টি ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টি-তে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তাতেই নড়ে উঠেছে আপের ভিত। রাঘব চাড্ডা, সন্দীপ পাঠক ও অশোক মিত্তল—এই তিন সাংসদের দলত্যাগ নিয়ে চর্চা প্রবল। রাজ্যসভায় আপের মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত, যা কার্যত একটি বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে আম আদমি পার্টির অন্দরে শুরু হয়েছে জোরদার আলোচনা। দলীয় সূত্রের খবর, পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন কৌশল ঠিক করতে ব্যস্ত নেতৃত্ব। সম্প্রতি গুজরাত সফর সেরে দিল্লিতে ফিরে দলের শীর্ষ নেতা মনীশ সিসোদিয়া সরাসরি কেজরিওয়ালের বাসভবনে গিয়ে বৈঠক করেন। প্রায় আধ ঘণ্টার এই বৈঠকে দলে ভাঙনের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ রণকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এদিকে, দলত্যাগী সাংসদদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের কথাও ভাবছে আপ নেতৃত্ব। রাজ্যসভার চিফ হুইপ এন ডি গুপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ জানাতে চলেছেন বলে খবর। বিশেষত যাঁরা প্রকাশ্যে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হতে পারে।
সব মিলিয়ে, এই দলবদলকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। তবে আন্না হাজারের বক্তব্য, রাজনৈতিক স্বার্থের উপরে নৈতিকতা ও সংবিধানের মূল্যবোধ রক্ষা করতে হবে।
