শ্যাম বিশ্বাস, নিজস্ব সংবাদদাতা : ভাগ্নের সঙ্গে মামির প্রেম। পরে দুজনের বাড়ি থেকে পলায়ন। আর তার পরে সম্পর্কের চরম পরিণতি। বসিহাটে ভাগ্নে-মামির প্রেম ও মৃত্যুর খবর বিশাল চর্চায়। মামির হাত ধরে ঘর ছাড়ার পর কী এমন চরম সত্যির সম্মুখিন হয়েছিল প্রেমিক ভাগ্নে। বাড়িতে ফোন করে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিল সে। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। ভাগ্নেকে খুন করে শেষমেশ আত্মহত্যা মামির। দুই প্রাপ্তবয়স্কের প্রেমের সম্পর্কের চরম পরিণতির কারণ কী। কেন খুন হতে হল ভাগ্নেকে। কেনই বা আত্মহত্যা করলেন মামি। তবে কি অন্য গল্প লুকিয়ে রয়েছে মামি-ভাগ্নের প্রেমের সম্পর্কে।

এই ঘটনার দুই প্রধান চরিত্র ভাগ্নে দেবাশীষ মন্ডল ও মামি রুনু মণ্ডল। বাড়ির অজান্তেই দুজনের মধ্যে তৈরি হয়েছিল প্রেমের সম্পর্ক। দেবাশীষ মন্ডলের বয়স ৩২ আর মামি রুনুর বয়স ৩৩। দুই অসম বয়সে প্রেম তার উপর সম্পর্কে মামি-ভাগ্নে। দুই পরিবারের সদস্যরাই বেঁকে বসে। শুরু হয় চরম অশান্তি। প্রেমের সম্পর্ককে নাম দিতে দুজনেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। দুই বাড়ির সঙ্গে যোগযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় দুজনের। একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতো দেবাশিস ও রুনু। আর সেই ভাড়া বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে দেবাশিসের ঝুলন্ত দেহ। আত্মহত্যা করেনি দেবাশিস। তাঁকে খুন করা হয়েছে। দেবাশিসের প্রেমিকা তথা মামিই খুন করেছে তাঁকে। এমনটাই অভিযোগ দেবাশিসের পরিবারের। পরিবার সূত্রে খবর বেশ কয়েকদিন আগে দেবাশিস তাঁর বাবাকে ফোন করেছিল। ফোন করে সে বাড়ি ফেরার কথা জানিয়েছিল। এখানেই শেষ তাঁর উপর অত্যাচার হচ্ছে বলে জানায় সে। মামি রুনু মণ্ডল তাঁকে ঘরে বন্দি করে রেখেছে বলে জানিয়েছিল তার বাবাকে। এরপর অনেক চেষ্টা করেও দেবাশিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি তার বাবা। এরপরেই এল সেই দুঃসংবাদ। শুক্রবার রাতে রুনু ফোন করে দেবাশিসের বাবাকে। ফোনে সে জানায় দেবাশিসকে মেরে ফেলেছে। এবার ও মরবে। এই কথা বলেই ফোন কেটে দেয় সে। শনিবার সকালে বসিরহাট স্টেশন সংলগ্ন অনন্তপুরে রেললাইনে রুনুর দেহ উদ্ধার হয়েছে। তার পর দেবাশিসের দেহ মেলে ময়লাকোলা সংলগ্ন এলাকায় একটি বাড়ি থেকে। জানা যায়, সেখানেই মামি-ভাগ্নে থাকতেন।
রুনু মন্ডলের বাপের বাড়ি বসিরহাটের ট্যাটরা এলাকায় । ১৪ বছর আগে রুনু মন্ডলের বিয়ে হয় বনগাঁয় । রুনু মন্ডল বাপের বাড়ি এলাকায় বাড়ি দেবাশিসের। দুর সম্পর্কে তাঁরা মামি-ভাগ্নে। সকলের অজান্তের তাঁদের ঘনিষ্টতা তৈরি হয়েছিল। কয়েকমাস আগেই তারা বাড়ি ছাড়ে। প্রশ্ন হচ্ছে কি এমন হল দুজনের মধ্যে যে এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে হল তাঁদের। একটি ভাড়া বাড়িতে লিভইন করত তারা। বেশ কয়েকদিন ধরেই মানসিক অশান্তিতে ভুগছিল দেবাশিস। এমনটাই জানিয়েছে পরিবার।
তবে কি এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিল সে। আর সেটাই মেনে নিতে পারেনি মামি রুনু মণ্ডল। তাই কি দেবাশিসকে ঘরে তালা বন্ধ করে রাখা হত। দেবাশিস তো তালাবন্ধ করে রাখার কথা জানিয়েছিল তাঁর বাবাকে। এমনকি রুনু মণ্ডলও দেবাশিসের বাবাকে ফোন করে সম্পর্ক মেনে নেওয়ার জন্য চাপ দিত বলে জানা গেছে। দেবাশিসের বাবা এই সম্পর্ক মানতে নারাজ ছিলেন। এই অশান্তির কারণেই কি মানসিক অশান্তিতে ভুগছিল দেবাশিস। কিন্তু কেন সে বাড়ি ফেরার জন্য, সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছিল। তবে মোহভঙ্গ নাকি আর্থিক অনটন। এই জোড়া মৃত্যু ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে। এই খুন ও আত্মহত্যার কারণ জানা একটি জটিল কারণ রুনু ও দেবাশিস দুজনেই মৃত। তদন্তকারীদের দাবি, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ফরেন্সিক পরীক্ষার ফল এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। ততক্ষণ পর্যন্ত এই রহস্যজনক জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় সব দিক খতিয়ে দেখে দুই পরিবারের সদস্য প্রতিবেশি, আত্মীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তে গতি আনার চেষ্টা করছে বসিরহাট থানার পুলিশ।