মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের প্রতিরক্ষা সামগ্রী রফতানি বেড়ে পৌঁছেছে ৩৮,৪২৪ কোটি টাকায়। যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬৩ শতাংশ বেশি। প্রতিরক্ষামন্ত্রক (Ministry of Defence) বৃহস্পতিবার এই তথ্য প্রকাশ করে জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে যেখানে রফতানির পরিমাণ ছিল ২৩,৬২২ কোটি টাকা, সেখানে এক লাফে ১৪,৮০২ কোটি টাকার বৃদ্ধি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এই রফতানিতে বড় ভূমিকা নিয়েছে সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ক্ষেত্রই। মোট রফতানির ৫৪.৮৪ শতাংশ এসেছে প্রতিরক্ষা পাবলিক সেক্টর সংস্থাগুলির (DPSU) হাত ধরে, বাকি ৪৫.১৬ শতাংশ অবদান বেসরকারি সংস্থাগুলির। পরিসংখ্যান বলছে, DPSU-র রফতানি আগের বছরের তুলনায় ১৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, বেসরকারি সংস্থাগুলিও ১৪ শতাংশ বৃদ্ধির মাধ্যমে নিজেদের শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে।
সংখ্যার বিচারে, বেসরকারি ক্ষেত্রের রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭,৩৫৩ কোটি টাকা, যেখানে DPSU-র রফতানি ২১,০৭১ কোটি টাকা। উল্লেখযোগ্য, আগের অর্থবর্ষে এই পরিসংখ্যান ছিল যথাক্রমে ১৫,২৩৩ কোটি ও ৮,৩৮৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ, সরকারি সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে বৃদ্ধি বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো।
মন্ত্রকের বক্তব্য, এই উত্থান প্রমাণ করছে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় প্রতিরক্ষা পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত বাড়ছে। শুধু বড় অস্ত্রব্যবস্থা নয়, বিভিন্ন সাব-সিস্টেম এবং উপাদান উৎপাদনেও ভারত এখন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠছে। বর্তমানে ৮০টিরও বেশি দেশে প্রতিরক্ষা সামগ্রী রফতানি করছে ভারত। পাশাপাশি রফতানিকারী সংস্থার সংখ্যাও বেড়ে হয়েছে ১৪৫—যা আগের বছরের ১২৮ থেকে প্রায় ১৩.৩ শতাংশ বেশি।
রফতানির গন্তব্যের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States)। মার্কিন সংস্থাগুলি ভারতের কাছ থেকে বিভিন্ন সাব-সিস্টেম, বিশেষ করে এয়ারক্রাফ্টের ফিউজেলাজের মতো উপাদান কিনছে। ফলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও নতুন মাত্রা পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও এই বৃদ্ধির পিছনে বড় কারণ। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত (Russia-Ukraine conflict), আর্মেনিয়া- আজারবাইজান সংঘাত ( Armenia-Azerbaijan) এবং একাধিক দেশের সামরিক আধুনিকীকরণের জেরে ভারতীয় রফতানি আরও বেড়েছে।
রফতানির তালিকায় DPSU-গুলির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ, ফিউজ এবং হালকা টর্পেডো উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে বেসরকারি সংস্থাগুলি রফতানি করছে সাঁজোয়া গাড়ি, ছোট অস্ত্র, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, এমনকি মানববিহীন ড্রোনও।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা রফতানির লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে ৩৫,০০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সেই লক্ষ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ছাড়িয়ে যাবে, এমনই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
প্রতিরক্ষা কূটনীতির অংশ হিসেবে বিদেশে নিযুক্ত সামরিক কূটনীতিকদেরও রফতানি বৃদ্ধির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী দিনে বিদেশি সংস্থাগুলিকে ভারতে উৎপাদন করে নিজেদের বাজারে রফতানির সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র সাফল্যের পথে প্রতিরক্ষা শিল্প এখন অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।