বিশ্বজিৎ নস্কর, সাংবাদিক : সম্প্রতি ভারতের গোয়েন্দা ও মাদক নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর অভিযানে এই মাদক উদ্ধারের বিষয়টি নজরে এসেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম ক্যাপ্টাগন তবে আন্তর্জাতিকভাবে এটি ‘জেহাদি ড্রাগ’ বা ‘আইসিস ড্রাগ নামে বেশি পরিচিত।

এই মাদকটি সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যায়:-
ক্যাপ্টাগন কী?
এটি মূলত অ্যাম্ফিটামিন এবং থিওফাইলিন নামক দুটি উপাদানের সংমিশ্রণে তৈরি একটি সিন্থেটিক ড্রাগ। ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে এটি হাইপারঅ্যাক্টিভিটি এবং নার্কোলেপসি (অতিরিক্ত ঘুম পাওয়া)-র চিকিৎসায় ব্যবহৃত হলেও, মারাত্মক আসক্তি এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে ১৯৮০-র দশকে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে এটি নিষিদ্ধ করা হয়।
কেন একে ‘জেহাদি ড্রাগ’ বা ‘মেশিন তৈরির ওষুধ’ বলা হয়?
মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি সংগঠনগুলো, বিশেষ করে ISIS (ইসলামিক স্টেট), তাদের যোদ্ধাদের মধ্যে এই মাদকের ব্যাপক ব্যবহার শুরু করে। এই মাদকটি গ্রহণ করার পর একজন মানুষের শরীরে নিম্নলিখিত পরিবর্তনগুলো ঘটে:
ভয় ও ক্লান্তি দূর হওয়া: এটি মস্তিষ্কের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে তীব্রভাবে উদ্দীপিত করে। ফলে টানা কয়েকদিন না ঘুমিয়ে এবং না খেয়েও প্রবল উদ্দীপনায় লড়াই করা যায়।
সহনশীলতা বৃদ্ধি: মাদকটির প্রভাবে শরীরের স্বাভাবিক ব্যথার অনুভূতি বা ক্লান্তি লোপ পায়। ফলে ব্যবহারকারী নিজেকে অপরাজিত বা একটি ‘মেশিন’-এর মতো মনে করতে শুরু করে।
সহিংস মানসিকতা: এটি বিবেচনাবোধ এবং সহানুভূতির অনুভূতি স্তিমিত করে দেয়, যা জঙ্গিদের চরম নৃশংস ও নিষ্ঠুর অপরাধ করতে প্ররোচিত করে।
ভারতের প্রেক্ষাপটে উদ্বেগ
ভারতে সাধারণত হেরোইন, কোকেন মতো মাদকের চোরাচালান বেশি দেখা যেত। কিন্তু সম্প্রতি দেশের সীমান্ত বা আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের হাত ধরে এই ‘ক্যাপ্টাগন’ ভারতে প্রবেশ করায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। কারণ এই মাদক শুধু যে যুবসমাজকে ধ্বংস করছে তা নয়, এর সাথে আন্তর্জাতিক জঙ্গি অর্থায়ন এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।