মক্কার মসজিদে ‘অশালীন আচরণ’-এর অভিযোগে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বাংলাদেশি দম্পতির! ১৪ অক্টোবর ওই দম্পতির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে বলে খবর ছড়ানোর পর থেকেই সমাজমাধ্যমে একাধিক ছবি ও ভিডিয়ো ভাইরাল। ভারতে একাধিক বিজেপি সমর্থক ওই পোস্টগুলি শেয়ার করেছেন। কিন্তু সেই সব ছবি ও ভিডিয়োর সঙ্গে বাস্তবে ওই দম্পতির কোনও সম্পর্ক নেই। এমনটাই জানাল তথ্য যাচাই সংস্থা ‘বুম’ (BOOM)। পুরনো এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনার ছবি ও ভিডিয়োকে নতুন ঘটনার সঙ্গে জুড়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি সংস্থাটির।

১৫ অক্টোবর ‘গাল্ফ নিউজ’-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, মক্কার একটি মসজিদে অশালীন আচরণের অভিযোগে এক বাংলাদেশি পুরুষ ও মহিলার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। ইসলামি আইনে ‘তা’জির’ বা বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তির আওতায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে কী ধরনের আচরণের অভিযোগ উঠেছিল, কোন মসজিদে ঘটনাটি ঘটেছিল কিংবা কবে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বিস্তারিত জানায়নি। বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষও জানিয়েছিল, দুই নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে তারা কোনও খবর পায়নি।
এর পরেই সমাজমাধ্যমে একাধিক ছবি ও ভিডিয়ো ছড়াতে শুরু করে। একটি ভিডিয়োকে ওই দম্পতির মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য বলে দাবি করা হয়। কিন্তু ‘বুম’-এর অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, ভিডিয়োটি ২০১৫ সালের। সৌদি আরবে বসবাসকারী লায়লা বিন আবদুল মুত্তালিব বাসিম নামে এক মায়ানমারের মহিলার দৃশ্য সেটি। সেই সময় ঘটনাটি নিয়ে সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
অন্য একটি ছবিতে কাবার সামনে এক দম্পতিকে দেখা যায়। তাঁদের বাংলাদেশি দম্পতি বলে দাবি করা হলেও, তাঁরা আসলে ব্লগার গেহাদ এলবানা এবং তাঁর স্বামী রামজি মাহমুদ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ছবিগুলি প্রকাশ করেছিলেন তাঁরা।
এ ছাড়া, কবরের উপর মাটি দিচ্ছে এক কিশোরী— এমন একটি ভিডিয়োও ছড়িয়েছে। ‘বুম’-এর দাবি, সেটি ২০২৬ সালের ২৬ মে-তেই প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে অক্টোবরের মৃত্যুদণ্ডের ঘটনার সঙ্গে তার কোনও যোগ নেই। সব মিলিয়ে, পুরনো ও সম্পর্কহীন ছবি-ভিডিয়োকে ব্যবহার করে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে তথ্য যাচাই সংস্থাটি।