মানহানির মামলায় বিজেপি বিধায়ক কর্নেল সিংয়ের পুনর্বিবেচনার আর্জি খারিজ করল দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত। আম আদমি পার্টি (আপ)-এর নেতা তথা দিল্লির প্রাক্তন মন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈনের দায়ের করা মানহানির অভিযোগে নিম্ন আদালতের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন বিজেপি বিধায়ক। বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর তাঁর আবেদন খারিজ করে দেন বিশেষ বিচারক রুবি নীরজ কুমার।

২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি একটি সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে জৈন সম্পর্কে মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছিল কর্নেল সিংয়ের বিরুদ্ধে। জৈনের অভিযোগ, ওই সাক্ষাৎকারে বিজেপি বিধায়ক দাবি করেছিলেন, তাঁর বাড়ি থেকে ৩৭ কেজি সোনা উদ্ধার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। পাশাপাশি, জৈনের ১১০০ একর জমি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি। জৈন দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং বেআইনি সম্পত্তি অর্জনের মতো একাধিক ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়েছিল।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি আদালত কর্নেল সিংকে সমন পাঠায়। পরে ২৯ মে মামলায় বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। একই বিধানসভা কেন্দ্রের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হওয়ার কারণে জৈন সম্পর্কে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে কর্নেল সিংয়ের আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল বলেও জানায় আদালত।
তবে এর আগে নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সেশনস কোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন বিজেপি বিধায়ক। ৩০ এপ্রিল সেশনস কোর্ট সেই নির্দেশ খারিজ করে মামলাটি নতুন করে বিবেচনার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফেরত পাঠায়। অভিযোগকারীর আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, ইডির প্রেস বিজ্ঞপ্তি এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকে ভিত্তি করেই তিনি মন্তব্য করেছিলেন। নির্বাচনের প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বীর বিষয়ে জনসাধারণকে অবহিত করাও তাঁর দায়িত্ব বলে দাবি করেন কর্নেল সিং।
তবে নতুন করে বিবেচনার পর পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হওয়ায় জৈনের মানহানির অভিযোগে মামলা এগোনোর পথ খুলল। অভিযোগের সত্যতা এবং আইনি ব্যতিক্রম প্রযোজ্য কি না, তা পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।