মাম্পি রায়, সাংবাদিক : রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপাল আর এন রবি-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার দুপুরের কিছু আগে লোকভবনে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে পুষ্পস্তবক দিয়ে স্বাগত জানান রাজ্যপাল। পরে দু’জনের মধ্যে একান্তে কিছুক্ষণ বৈঠকও হয়। রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে সেই সাক্ষাৎ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর গত ৮ মে প্রথম বার লোকভবনে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। সেদিনই বিজেপি বিধায়কদলের তরফে সরকার গঠনের দাবিপত্র পেশ করেছিলেন তিনি। রাজ্যপালের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন জানিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে সরকার গঠনের আবেদন করেছিলেন। তার পর প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যে এ দিন ফের রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন তিনি।
বুধবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকভবনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। দুপুর ১২টার কিছু আগে শুভেন্দুর গাড়ি সেখানে পৌঁছয়। রাজ্যপাল নিজে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। সূত্রের খবর, কুশল বিনিময়ের পর দু’জনের মধ্যে রাজ্যের প্রশাসনিক পরিস্থিতি, নতুন সরকারের কর্মসূচি এবং আসন্ন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যদিও বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি।

ইতিমধ্যেই নতুন সরকার একাধিক জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। প্রশাসনিক স্তরে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজও শুরু হয়েছে। আগামী মাসেই রাজ্য সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হওয়ার কথা। সাংবিধানিক রীতি মেনে সেই অধিবেশনের সূচনা করবেন রাজ্যপাল। পাশাপাশি মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে। সে ক্ষেত্রে নতুন মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানও লোকভবনেই হওয়ার কথা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এ দিনের বৈঠকে সেই বিষয়গুলিও উঠে এসেছে।
গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৮টি আসনে জয় পেয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করে গেরুয়া শিবির। তার পর ৮ মে কলকাতায় এসে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই বৈঠকেই সর্বসম্মতিক্রমে মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দুর নাম চূড়ান্ত হয়। ভবানীপুরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে হারানোর পর থেকেই তিনি বিজেপির মুখ হয়ে উঠেছিলেন। শাহ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করার পরই শুভেন্দু কয়েক জন জয়ী বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে লোকভবনে গিয়ে সরকার গঠনের দাবি জানান। বুধবারের সাক্ষাৎ সেই রাজনৈতিক অধ্যায়েরই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পর্ব বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।