মাম্পি রায়, সাংবাদিক: লেহতে হিংসার ঘটনায় সোনম ওয়াংচুকের গ্রেফতারের পর থেকে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে লাদাখের পরিস্থিতি। হিংসায় মৃত্যু হওয়া ৪জনের শেষকৃত্যও ইতিমধ্যে হয়ে গিয়েছে। আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা রয়েছে। জারি রয়েছে কার্ফু। লেহ জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ। লেহর পাশাপাশি কার্গিল জেলাতেও একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা রয়েছে। এদিকে উপরাজ্যপাল কোবিন্দর গুপ্তা রাজভবনে উচ্চস্তরের বৈঠক করেছেন। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এই বৈঠক করেন তিনি। সমস্ত সরকারি ভবন, সরকারি ও বেসরকারি স্কুল, অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রগুলি সোমবারেও বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেই বৈঠকে। লেহ-তে শান্তি বজায় রাখতে আইটিবিপি জওয়ানদের ফ্ল্যাগ মার্চ হচ্ছে। লেহতে অতিরিক্ত নজরদারি চালাচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনী। হিংসায় জড়িতরা এখনও এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তাদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। উপরাজ্যপাল কোবিন্দর গুপ্তা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সরকারি দফতরে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা সহ্য করা হবে না। এইধরণের ঘটনা ঘটলে যথাসম্ভব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।লেহতে হওয়া ওই বৈঠকে লাদাখ প্রশাসনের প্রবীণ নেতা ও বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরা এবং গুপ্তচর সংস্থার আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

গত বুধবার লেহতে ব্যাপক আকার নেয় যুবদের বিক্ষোভ। ঘটনায় ৪জনের মৃত্যু হয়েছে। ৮০জন আহত হয়েছে। লাদাখের হিংসায় এখনও পর্যন্ত ৫০-এর বেশি মানুষকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সমাজসেবী এবং পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুককে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা আইনে হেফাজতে নিয়ে রাজস্থানের যোধপুর জেলে পাঠানো হয়েছে।এই আইনে সরকার স্রেফ সন্দেহের বশে সন্দেহভাজনকে দিনের পর দিন আটকে রাখতে পারে। জামিনও পাওয়া যায় না। সোনমের সঙ্গেও তেমনটা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনুগামীরা।
সোনম ওয়াংচুককে গ্রেফতার করার পর লেহতে যাতে অশান্তি না ছড়ায় তা নিশ্চিত করতে শহরের ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কড়া পুলিশি প্রহরায় রাখা হয়েছে গোটা শহরকে। জমায়েতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সোনম ওয়াংচুককে গ্রেফতার করার পর লেহতে যাতে অশান্তি না ছড়ায় তা নিশ্চিত করতে শহরের ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কড়া পুলিশি প্রহরায় রাখা হয়েছে গোটা শহরকে। জমায়েতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সোনমকে গ্রেফতারির প্রতিবাদে এবার ক্ষোভ উগরে দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বিজেপি ও আরএসএস লাদাখের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধ্বংস করছে বলে অভিযোগ তুললেন রাহুল। এক্স হ্যান্ডলে রাহুল গান্ধী লিখেছেন, ‘লাদাখের মানুষ অসাধারণ। বিজেপি ও আরএসএসের আক্রমণে তাঁদের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংকটের মুখে। লাদাখের মানুষ প্রতিবাদ করেছিলেন নিজেদের অধিকারের জন্য। বিজেপি তার জবাবে চার জনকে হত্যা করেছে, সোনম ওয়াংচুককে জেলে ভরেছে। হত্যা বন্ধ হোক, হিংসা বন্ধ হোক, ভয় দেখানো বন্ধ হোক। এবং সেখানকার মানুষের দাবি শোনা হোক। লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফশিলের অন্তর্ভুক্ত করা হোক।’

লাদাখে গণবিক্ষোভ বড় আকার নিতেই গবেষক তথা পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুককে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের আগেই অবশ্য সোনমের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের উস্কানি এবং হিংসায় ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। সোনমের ভূমিকায় প্রশ্ন তোলে খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। যদিও সোনমের শিক্ষামূলক সংস্থা ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট লঙ্ঘন করেছে, এই অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পরই সোনমকে রাতারাতি লাদাখ থেকে ১৪০০ কিলোমিটার দূরে রাজস্থানের যোধপুরের জেলে বন্দি করা হয়। এবার লাদাখের জনগণের চাহিদা কি আর পূরণ হবে? যে সোনম ওয়াংচুকের হাত ধরে লাদাখ উন্নয়নের শিখরে উঠছিল, সোনমের গ্রেফতারির পর আবারও কি পিছনের সারিতে চলে যাবে সেই লাদাখ, প্রশ্ন একাধিক? উত্তর দেবে সময়।