Lucknow, Jun 17 (ANI): Uttar Pradesh Chief Minister Yogi Adityanath speaks during the distribution of appointment letters to selected candidates for the post of computer operator in the police department at Lok Bhawan, in Lucknow on Wednesday. (ANI Photo)
অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দানের অর্থ তছরুপের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা যখন তুঙ্গে, তখনই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ‘ভিত্তিহীন মন্তব্য’ না করার আবেদন জানালেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। শুক্রবার অযোধ্যায় তিনি জানান, মন্দির ট্রাস্টের অনুরোধেই বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে এবং এই তদন্তই সত্য-মিথ্যার ফয়সালা করবে।

যোগী বলেন, “আমার সমস্ত রামভক্তদের কাছে আবেদন, ট্রাস্টের অনুরোধে আমরা সিট তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। আমি আশ্বস্ত করছি, এই তদন্ত সত্য ও মিথ্যাকে আলাদা করে দেবে। কারও কাছে যদি কোনও নথি বা প্রমাণ থাকে, তা সিটের কাছে জমা দিন। কিন্তু তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এমন কোনও মন্তব্য করবেন না, যাতে রামভক্তদের অনুভূতিতে আঘাত লাগে বা তদন্ত প্রভাবিত হয়।”
গত ১৪ জুন উত্তরপ্রদেশ সরকার তিন সদস্যের একটি সিট গঠন করে। তদন্তকারী দলে রয়েছেন লখনউয়ের বিভাগীয় কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্ত, আইজি কিরণ এস এবং অর্থ দফতরের বিশেষ সচিব নীল রতন। প্রাথমিক ও চূড়ান্ত রিপোর্ট দ্রুত জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলটিকে।
মুখ্যমন্ত্রী এ দিন ধৈর্য ধরারও আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্য, “রামমন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য ভক্তদের ৫০০ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। সত্য সামনে আসার জন্য আরও ১৫ দিন অপেক্ষা করা নিশ্চয়ই কঠিন নয়।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃত ভাবে অযোধ্যা ও রামজন্মভূমি মন্দিরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছেন।
যোগীর কথায়, “যাঁরা অতীতে রামভক্তদের উপর লাঠিচার্জ করেছেন, গুলি চালিয়েছেন, রামের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁরাই এখন নৈতিকতার পাঠ দিচ্ছেন। অযথা চরিত্রহনন বা অযোধ্যাকে অপমান করার চেষ্টা করা উচিত নয়। তদন্ত হোক, সত্য সামনে আসুক, তারপর যে যার বক্তব্য রাখুন।”
তবে তদন্তে কোনও অনিয়ম প্রমাণিত হলে কাউকে রেয়াত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যে-ই দোষী হোক না কেন, তাকে ছাড়া হবে না। আইন তার কাজ করবে।”
এ দিকে এই বিতর্কে রাজনৈতিক চাপানউতোরও জোরদার হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব কটাক্ষ করে বলেছেন, “অযোধ্যায় কারও রেকর্ড সংখ্যক সফর নিয়েও একটি সিট গঠন হওয়া উচিত।” তাঁর এই মন্তব্যকে যোগীর সাম্প্রতিক অযোধ্যা সফর ঘিরে রাজনৈতিক খোঁচা বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিতর্কের সূত্রপাত সমাজবাদী পার্টির নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক পবন পাণ্ডের অভিযোগ থেকে। তাঁর দাবি, রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দানের অর্থের মধ্যে ৭ থেকে ৭.৫ কোটি টাকা তছরুপ হয়েছে। সেই অভিযোগকে সামনে এনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছিলেন অখিলেশও। তিনি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবিও জানান।
যদিও রামজন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সদস্য মহন্ত দিনেন্দ্র দাস মহারাজ আগেই সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, মন্দিরে প্রাপ্ত প্রতিটি দান নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই নথিভুক্ত করা হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। এখন সিট তদন্তের রিপোর্টের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে রামভক্ত—সবার।