Pakistan and India flag together realtions textile cloth fabric texture
আবারও চর্চায় পাকিস্তান। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ভোট নিয়ে ভারত-কে টানলেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। পাল্টা ভারত ও বুঝিয়ে দিল গায়ের জোরে ভোট করিয়ে সীমান্তের ওপার থেকে যতই তোপ দাগা হোক, ভারত ও ছেড়ে কথা বলার পাত্র নয়।

প্রায় গায়ের জোরের অধিকৃত কাশ্মীরের ভোট করাচ্ছে পাকিস্তান সরকার। শাহবাজ সরকারের বিরুদ্ধে সেখানকার জনগণের আগে থেকেই ক্ষোভ ছিল। ভোটের প্রথম দফায় সেই ক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে। এই পরিস্থিতিতে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ভোট নিয়ে ইসলামাবাদকে তোপ দেগেছে নয়াদিল্লি। নয়াদিল্লির তরফে সাফ বার্তা দেওয়া হয়েছে, এই ভোট দখলদারি আড়ালের চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।
মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, অধিকৃত কাশ্মীরে চলা গণবিক্ষোভ হল পাকিস্তান সরকারের অর্থনৈতিক শোষণ, জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন এবং দমন-পীড়নের প্রত্যক্ষ পরিণতি। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সেখানে যে লোক দেখানো নির্বাচন হচ্ছে, তা আসলে দখরদারি আড়ালের চেষ্টা মাত্র। সেখানে যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে, সেগুলো গোপন করার চেষ্টা। রণধীর স্পষ্ট জানান, পাকিস্তানের অবৈধ ও জোর করে দখলে থাকা এলাকাগুলি জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ।

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ৩ দফা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট ছিল গত সোমবার। নির্বাচন শুরু হতেই নানা জায়গা থেকে হিংসার খবর আসতে থাকে। একাধিক জায়গায় ব্যালট পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয় রাওয়ালকোট, কোটলির মতো এলাকাগুলি। গত ৫২ দিন ধরে রাওয়ালকোটে বিক্ষোভ কর্মসূচি চালাচ্ছিল জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি। এই বিক্ষোভ দমনে এলোপাথাড়ি গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ মিছিলে উপর অতর্কিতে গুলিবৃষ্টি শুরু করে পুলিশ। এই হামলায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বহুমানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

এদিকে যখন ২০ জন প্রতিবাদীর মৃত্যু হয়েছে পাক পুলিশের গুলিতে তখন তাদের শত্রু হিসাবেই দেখছে ইসলামাবাদ। শুনতে অবাক লাগলেও এই মন্তব্য করেছেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। তাঁর কথায়, আমি অধিকৃত কাশ্মীরের বিক্ষোভকারী এবং ভারতকে একই শ্রেণিতে রাখি এবং ভারতের মতোই শত্রু হিসাবে মনে করি।
মঙ্গলবার প্রশ্ন করা হয় পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজাকে। জানতে চাওয়া হয়, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকার কোনও আলোচনায় বসতে চায় কি না। তবে অধিকৃত কাশ্মীরের প্রতিবাদীদের সঙ্গে কোনও আলোচনায় যে ইসলামাবাদ রাজি নয়, তা স্পষ্ট করে দেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী। একই সঙ্গে এ-ও জানান, তিনি ভারতকে যে ভাবে দেখেন, অধিকৃত কাশ্মীরের প্রতিবাদীদেরও তেমনই শত্রু বলে মনে করেন।
পাক অধিকৃত কাশ্মীরের এই নির্বাচনকে মান্যতা দেয় না ভারত। এছাড়াও আরও কিছু কথা পাকিস্তানের মনে রাখা দরকার। তাদের দেশে যখন খাদ্য সঙ্কট, হাহাকার-তখন পাকিস্তান সরকার সদর্পে ঘোষণা করে অধিকৃত কাশ্মীর বিদেশি জমি। তাহলে কেন সেখানে ভোট করানো হল? এর উত্তর দিতে পারবেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, বা খোয়াজা আসিফের মতো গুণধর মন্ত্রীরা। আর প্রতিবাদীদের যতই ভারতের সঙ্গে তুলনা করুন খোয়াজা আসিফ, আপনাদের হাতে ২০ জন নিরীহ মানুষের রক্ত লেগে রয়েছে। সেই রক্তের দাগ মুছবেন কী করে মিস্টার খোয়াজা আসিফ? জবাব আছে আপনার কাছে, বুকের পাটা থাকলে জবাব দিন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আসিফ।