বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস ভোটের আগে রাজ্যজুড়ে রটিয়ে দিয়েছিল বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ খেতে দেবে না। মাংস খেতে দেবে না। বাংলা জুড়ে চালু হবে নিরামিষ আহার। শুধু তাই নয় অবাঙালি সংস্কৃতি ঢুকিয়ে দেওয়া হবে বাঙালীদের মধ্যে। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ইতিমধ্যেই মা আহারে ডিমের সঙ্গে সপ্তাহে দুদিন মাছের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বিধানসভার প্রথম দিনের অধিবেশনে ভাতের সঙ্গে মাছের ব্যবস্থা করা হয়েছিল সমস্ত বিধায়কদের দুপুরের খাবারে। এবার দেখা গেল আরেকটু অন্য ছবি। এলাকা পরিদর্শনে বেরিয়ে এক গৃহস্থ বাড়িতে লোটে মাছের গন্ধ পেয়ে রাস্তা থেকে বাড়িতে ঢুকে পড়লেন স্বয়ং বিধায়ক।

শুধু তাই নয় চেয়ে খেলেন লোটে মাছের তরকারি। সোনারপুর দক্ষিণের বিধায়ক রূপা গাঙ্গুলীর এমন ছবি দেখে হতবাক স্থানীয় ভোটাররা। রূপাকে লোটে মাছের তরকারি খাইয়ে তৃপ্তি পেলেন গৃহকর্ত্রী।
বৃহস্পতিবার সোনারপুরে ঘটনাটি ঘটে। এদিন স্থানীয় বিজেপির কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রূপা গাঙ্গুলী যখন এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছিলেন তখন একটি বাড়ি থেকে লোটে মাছ রান্নার গন্ধ পান। হঠাৎ সেই বাড়ির সামনে থমকে দাঁড়িয়ে পড়েন রূপা গাঙ্গুলী। সঙ্গে থাকা কর্মীদেরকে জিজ্ঞেস করেন কোন বাড়ি থেকে গন্ধটা আসছে। জানলা দিয়ে জিজ্ঞেস করেন রূপা নিজেই। তার বাড়িতে সত্যিই লোটে মাছ রান্না হচ্ছে কিনা। রূপা গাঙ্গুলী কথাতে উত্তর দেন বাড়ির সদস্যরা। বিধায়ক লোটে মাছের তরকারি খাওয়ার কথা বললে ডেকে আপ্যায়ন করে নিয়ে বসান বাড়িতে। একেবারে অতি সাধারণ একটি নিম্নবিত্ত বাড়িতে ঢুকেই লোটে মাছের তরকারি খাওয়ার জন্য চেয়ার পেতে বসে পড়েন তিনি। হাত ধুয়ে স্টিলের প্লেটে করে লোটে মাছের তরকারি খেতে দেওয়া হয় রূপাকে।। সঙ্গে অল্প কিছু ভাতও দেওয়া হয়। লোটে মাছের তরকারি আর ভাত চামচ দিয়ে মাখিয়ে মুখে তুলতেই তৃপ্তি। তারপর বিধায়ক রূপা গাঙ্গুলী বলেন, “গন্ধটা দারুন বেরোচ্ছিল তাই আর লোভ সামলাতে পারিনি।”