New Delhi, Jul 27 (ANI): Environmentalist Sonam Wangchuk, along with his wife Gitanjali Angmo, speaks to media after offering tributes at Rajghat, soon after getting discharged from Medanta Hospital in Gurugram, in New Delhi on Monday. (ANI Photo/Sumit)
পাঁচ বছর অন্তর ভোট। সেই ভোটে পছন্দের বিধায়ক বা সাংসদ বেছে নেওয়া। কিন্তু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাজ পছন্দ না হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার কোনও সাধারণ ব্যবস্থা নেই। দেশের এই রাজনৈতিক ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনের দাবিতে এ বার ‘শান্তিপূর্ণ বিপ্লব’-এর ডাক দিলেন লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক।

স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে শুক্রবার ভিডিয়ো বার্তায় ওয়াংচুক বলেন, ‘‘দেশে বড় পরিবর্তন প্রয়োজন। শান্তিপূর্ণ বিপ্লবই একমাত্র পথ।’’ তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে ‘রাইট টু রিকল’-এর মতো ব্যবস্থার প্রসঙ্গ। অর্থাৎ, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাজ নিয়ে ভোটাররা অসন্তুষ্ট হলে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে প্রত্যাহার করার ব্যবস্থা।
ওয়াংচুকের মতে, ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার অন্যতম বড় দুর্বলতা হল নেতা বেছে নেওয়ার পদ্ধতি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘নেতা ভাল না হলে গোটা দেশ ভুল পথে চালিত হয়।’’ তবে কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে নিশানা করেননি তিনি। বিভিন্ন সরকারের বিরুদ্ধেই অন্যায়ের প্রতিবাদে ওঠা কণ্ঠস্বর দমনের অভিযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন লাদাখের সমাজকর্মী।
দেশের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওয়াংচুক। তাঁর দাবি, ৫০ বছর আগে যে দেশগুলি ভারতের সমকক্ষ বা পিছনে ছিল, তাদের অনেকেই এখন এগিয়ে গিয়েছে। মাথাপিছু জিডিপির প্রসঙ্গে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের উদাহরণ টেনে তাঁর আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার শতবর্ষে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের অবস্থান নিয়ে সমস্যা হতে পারে।
নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের প্রসঙ্গও তোলেন ওয়াংচুক। তাঁর অভিযোগ, নতুন শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরেও শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে সৎ, নীতিবান ও নিঃস্বার্থ ভারতীয়দের একত্রিত করে দেশের ভবিষ্যতের জন্য ‘নতুন মানচিত্র’ তৈরির ভাবনা জানিয়েছেন ওয়াংচুক। তাঁর আহ্বান, দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দেশের জন্য নতুন রাজনৈতিক ভাবনা তৈরি করতে হবে।