
মাঝ আকাশে ককপিটে হামলা। গুরুতর আহত অবস্থাতেও শেষ শক্তি দিয়ে দরজা খুলে দিয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। তাঁর সেই সাহসিকতার জন্য এ বার প্রকাশ্যে কৃতজ্ঞতা জানালেন ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হের্ৎসগ। শুধু স্মিতই নন, বিপদের মুহূর্তে হামলাকারীকে কাবু করতে সাহায্য করা চার ইজরায়েলি যাত্রীকে ‘প্রেসিডেন্টস মেডাল ফর সিভিলিয়ান ব্রেভারি’ দেওয়ার সুপারিশও করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে হের্ৎসগ জানান, ইয়িনন হায়ন, ৎভিকা মানস, আসাফ রেগুয়ান এবং চিকিৎসক শোতা মোসিয়াশভিলিকে ওই পদকের জন্য সুপারিশ করবেন তিনি। তাঁদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে বিষয়টি জানিয়েছেন ইজরায়েলি প্রেসিডেন্ট।
হের্ৎসগের কথায়, ‘‘অসম্ভব এক পরিস্থিতিতে ওই চার জন অসাধারণ সাহস দেখিয়েছেন।’’ একই সঙ্গে তিনি তালি মানসের ভূমিকাও উল্লেখ করেন। ককপিট থেকে আওয়াজ শুনে যাত্রীদের সতর্ক করেছিলেন তিনি। বিমানে থাকা অতিরিক্ত পাইলটেরাও পরে ককপিটে ঢুকে বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করাতে সাহায্য করেন।
আর স্মিতকে উদ্দেশ করে হের্ৎসগ বলেন, ‘‘শেষ শক্তি দিয়ে ককপিটের দরজা খুলে বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। আপনার সাহস, দৃঢ়তা এবং কাজের জন্য হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ। দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠুন।’’
ঘটনাটি ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানের। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ওই বিমানে ককপিটে হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত হন স্মিত। তাঁর দরজা খোলার পর কয়েক জন যাত্রী ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে অতিরিক্ত পাইলটেরা দায়িত্ব নিয়ে বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করান।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও এর আগে স্মিতের সাহসের প্রশংসা করে ঘটনাটিকে সম্ভাব্য ‘৯/১১’-এর মতো বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়ার ঘটনা বলে উল্লেখ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও স্মিতকে ‘হিরো’ বলে প্রশংসা করেছেন।
ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন ইজরায়েলে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত রুভেন আজ়ারও। তাঁর দাবি, স্মিতের পদক্ষেপের পাশাপাশি যাত্রী এবং অতিরিক্ত পাইলটদের সম্মিলিত তৎপরতাতেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলাকালীন ইজরায়েলগামী এবং ইজরায়েল থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের উড়ান সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।