নাজিয়া রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যের স্কুলগুলিতে শুরু হয়েছে পরিদর্শন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই বিশেষ পরিদর্শন শুরু হয়েছে রাজ্যের স্কুলগুলিতে। এই পরিদর্শনে সরকারি স্কুলের সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পরিদর্শনে খুব একটা আশাব্যাঞ্জক ছবি উঠে আসছে না বলেই জানাচ্ছেন পরিদর্শকেরা।
রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলির হালহকিকত খুঁজে দেখতে শুরু হল বিশেষ পরিদর্শন। সরকারি স্কুল নিয়ে একাধিক সময় অভিযোগ ওঠে। এবার সব অভিযোগ সরেজমিনে খতিয়ে দেখছেন শিক্ষা দফতরের আধিকারিকেরা। গত বছরের মতো এবারও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই বিশেষ পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে। তবে পরিদর্শনে খুব একটা আশাব্যাঞ্জক ছবি উঠে আসছে না বলেই জানাচ্ছেন পরিদর্শকেরা। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এই পরিদর্শন চলবে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চমাধ্যমিকের তৃতীয় সেমেস্টার চলছিল। তাই মূলত যে স্কুলগুলিতে পরীক্ষাকেন্দ্র পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল না, সেগুলিতেই যাচ্ছিলেন পরিদর্শকরা। স্কুল পরিদর্শন করে খুব একটা খুশি নন পরিদর্শকেরা। পরিদর্শকদের বক্তব্য, সার্বিকভাবে হাজিরা বেশ কম। এছাড়াও, লার্নিং আউটকামেও বিস্তর খামতি পাচ্ছেন তাঁরা।শিক্ষক-ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে, খুব ভালো ছবি উঠে আসছে না বলে মত পরিদর্শকদের।

১৯ সেপ্টেম্বর প্রথম দিন রাজ্য জুড়ে ৭০টি স্কুল পরিদর্শন করা হয়েছে। শনিবার সেই সংখ্যাটি আরও বেড়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই পরিদর্শন। অর্থাৎ এই তালিকায় যুক্ত হবে আরও বেশ কিছু স্কুল। এই পরিদর্শন সম্পন্ন হলে ৫০টি বিষয়ের উপরে বিশ্লেষণাত্মক রিপোর্ট খুব শীঘ্র জমা দেওয়া হবে স্কুলশিক্ষা দপ্তরের কাছে। পরিদর্শকদের আশা, তার উপর ভিত্তি করে রাজ্য সরকার ব্যবস্থা নিলে, পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। পরিদর্শকেরা সরকারি পোর্টালে তথ্য জমা দেওয়ার পাশাপাশি নিজেরাও একটি গুগল শিটে সেসব তথ্য রাখছেন পরবর্তীকালে পর্যালোচনার জন্য।

একদিকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা আর অন্যদিকে পুজোর হাওয়া চলে আসায় স্কুলে হাজিরা এমনিতেই কম। যেখানে উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে সেখানে এমনিতেই ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পঠনপাঠন বন্ধ রয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের একাংশ বক্তব্য, শুধু এখন বলে নয়, স্কুলভেদে একাধিক সময় পড়ুয়াদের হাজিরার ছবিতে তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। অনেক সময় স্কুলে শিক্ষার্থীদের হাজিরা বজায় রাখতে অভিভাবকে ডাকা হয়। অভিভাবক ও শিক্ষকদের বৈঠক ডাকা হলেও সেখানে অভিভাবকদের সংখ্যা হাতে গোনা থাকে। তবে এই ধরনের পরিদর্শন করার পর স্কুলের সার্বিক পরিস্থিতির একটা রিপোর্ট দেখে রাজ্যের শিক্ষা দফতর কিছু ব্যবস্থা নিতে পারে বলেও আশাবাদী শিক্ষকমহলের একাংশ।