অস্তিত্বের লড়াই আওয়ামী লীগের

জুলেখা নাসরিন, প্রতিনিধি : বাংলাদেশে এখন কী চলছে। কাউন্টডাউন ? নাকি কাউন্টডাউনের সঙ্গে ধড়পাকড়। কিসের কাউন্টডাউন এতক্ষনে নিশ্চয় আপনি আন্দাজ করতে পেরেছেন। আর কাদেরই বা ধড়পাকড় করা হচ্ছে সেটা বুঝতে আশাকরি আপনার অসুবিধা হবে না। মনে আছে তো, ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেন গুরুত্বপূর্ণ। কারন ১৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার রায় ঘোষণা হবে। আবার ১৩ নভেম্বর ঢাকায় লকডাউনের ডাক আওয়ামী লীগের। অর্থাৎ, ইউনুস ও তার সঙ্গী-সাথীদের কাছে বা বলা ভালো মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তিগুলির কাছে ১৩ নভেম্বর একটা বড় দিন।
আবার ১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছ নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ করার দিন। ১০ নভেম্বর থেকেই পথে মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সমর্থকরা। ১৩ নভেম্বর সমস্ত মানুষকে বাড়িতে থেকে নীরব প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। ১৩ নভেম্বর পড়েছে বৃহস্পতিবার। ১৪ ও ১৫ নভেম্বর শুক্র ও শনিবার। ওইদিন বাংলাদেশে ছুটি থাকে। ফলে স্বাভাবিক ভাবে বন্ধ থাকবে বাংলাদেশের সমস্ত সরকারি অফিস-আদালত। তাই আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ধারনা ১৬ নভেম্বর থেকে ২০ নভেম্বরের মধ্যে যে কোনও দিন সাজা ঘোষণা হয়ে যেতে পারে হাসিনার।

আওয়ামী লীগ সমর্থকরা খুব ভালো করেই জানেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল শেখ হাসিনার চূড়ান্ত সাজাই ঘোষনা করবেন। কারন ইউনুস ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের উদ্দেশ্য হাসিনাকে গোটা বিশ্বের সামনে চূড়ান্তভাবে অপদস্থ করা। ফলে ইউনুস ও তার সহযোগীরা ক্রামাগত চেষ্টা করবে হাসিনাকে ফাঁসিকাঠে চড়াতে। ইউনুসরা যখন হাসিনাকে নিয়ে, তার সাজা কি হবে সেটা নিয়ে ব্যস্ত ঠিক তখনই বাংলাদেশ সেনার অন্দরে গোপনে একটা বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেল।
সোমবার থেকে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মিটিং-মিছিল ও প্রতিবাদ সভা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব তাদের এই কর্মসূচির কথা আগেই সমাজ মাধ্যমে জানিয়েছিল। ১৩ নভেম্বর ঢাকার মানুষকে বাড়িতে থেকে অসহযোগ আন্দোলনে সামিল হওয়ার কথা বলেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থকরা। সাধারণ মানুষকে একত্রিত করে ইউনুসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চাইছে হাসিনার দল। অর্থাৎ আর লুকিয়ে থেকে গোপনে নয়, একেবারে ঘোষণা করে সামনা-সামনি লড়াইয়ের ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের এই উদ্যোগকে দমন করতে তাদের নতুন উদ্যোমে গ্রেফতার শুরু করেছে ইউনুসের পুলিশ। ইতিমধ্যে ব্যারাকে ফিরে যাওয়া সেনাদের আবার মাঠে নামার কথা বলা হয়েছে। ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনা- পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে মাঠে নেমে কাজ করবে। ইতিমধ্যে প্রায় ১০০-১৫০ জন আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থক গ্রেফতারও হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই গ্রেফতারি আরও বাড়বে। তবে ভয় পাচ্ছে না হাসিনার সমর্থকরা। যেমন জানা যাচ্ছে, ১০ থেকে ১৩ নভেম্বরের মধ্যে যমুনার আশেপাশে প্রায় এক লক্ষ গ্যাস বেলুন ওড়ানোর পরিকল্পনা ছিল আওয়ামী লীগ কর্মীদের। তবে এতকিছুর পরেও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছটিকা মিছিল করছে আওয়ামী লীগ।

একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সম্প্রতি। সেখানে সেনার পোষাক জুতো পরে একজনকে বলতে শোনা যাচ্ছে, যে কোন মূল্যে হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হবে। আর সেই শপথ তিনি নিচ্ছেন। জানা যাচ্ছে বেসরকারি সংগঠন মিলিশিয়ার কয়েক হাজার যুবককে পুলিশের পোষাক পরিয়ে আওয়ামী লীগের ঘোষিত বিক্ষোভ দমনে মোতায়েন করা হয়েছে। প্রায় ৯ হাজার যুবককে পুলিশের ইউনিফর্ম দেওয়া হয়েছে। যারা সস্বস্ত্র অবস্থায় ১০-১৩ নভেম্বর পর্যন্ত রাস্তায় থাকবেন। আসিফ আহমেদ সজীব ভুঁইয়ার নির্দেশে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে এই গোপন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম নর্থ-ইস্টের হাতে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
অন্যদিকে সম্প্রতি সেনাপ্রধান ওয়াকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনার অন্য শাখার জেনারেলরা গিয়েছিলেন দেখা করতে। ওয়াকারের সঙ্গে একটি গোপন বৈঠকও করেন তারা। আর সেই বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্তও হয়। তার মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত হল- বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন হতে হবে ইনক্লুসিভ। এবং অবশ্যই অবাধ ও শান্তিপূর্ণ। অর্থাত বাংলাদেশে যে সমস্ত রাজনৈতিক দল রয়েছে তাদের সকলকেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দিতে হবে। বাংলাদেশের মোট ৫২টি রাজনৈতিক দল রয়েছে। তারমধ্যে কেবল আওয়ামী লীগের কাজে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সেনার তরফে ঘুরিয়ে বলা হয়েছে, সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ না নিলে সেনা নির্বাচনে সহযোগীতা করবে না। তাহলে কি বোঝাল আওয়ামী লীগকেও নির্বাচনে অংশ নিতে দিতে হবে।

ইউনুসও খুব ভালোভাবে জানে আওয়ামী লীগ ছাডা় বাংলাদেশে যেমন অসম্পূর্ণ। তেমনি নির্বাচনও বৈধতা পাবেনা। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের জন্য ৬টি আন্তর্জাতিক সংগঠন ইউনুসকে চিঠি দিয়েছে। চিঠির বিষয়বস্তুও বেশ স্পষ্ট। এই আবহে বাংলাদেশ সেনাও নিজেদের মধ্যে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিলেন, নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। না হলে সেনা সাহায্য করবে না নির্বাচনে। সেনার আকস্মিক এই আবস্থান বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য যথেষ্ট তাতপর্যপূর্ণ। সেনার তরফে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, একটি অ-গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অংশ হয়ে বাংলাদেশ সেনা তাদের সন্মান ক্ষুন্ন করতে পারবে না। সেনার আরও বক্তব্য ইনক্লুসিভ নির্বাচন ছাড়া আন্তর্জাতিক চাপ সামলানো অসম্ভব। ফলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, সেনা যদি অন্তবর্তী সরকারের উপর চাপ দেয় তাহলে ইউনুস বাধ্য হবেন আওয়ামী লীগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে।

তবে সাজা যাই হোক হাসিনা আর হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না। ইউনুস প্রতিষ্ঠিত সাতটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাতকারে। ইতিমধ্যে এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে আলোচনা চলছে বাংলাদেশে। সেই প্রতিষ্ঠানগুলি হল- গ্রামীন টেলিকম, গ্রামীন কল্যাণ,গ্রামীন ফান্ড, গ্রামীন মতস ফাউন্ডেশন, গ্রামীন উদ্যোগ, গ্রামীন সামগ্রী ও গ্রামীন শক্তিও। এই প্রতিষ্ঠান কখন কী উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছিল। এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানের কাজই বা কী। সম্পদের পরিমানই বা কত। এই সমস্ত প্রশ্ন গুলি হাসিনা তুলে ধরেন সাক্ষাতকারে। এমনিতে ইউনুসকে চোর বলেন হাসিনা। এবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাক্ষাতকার দিয়ে ঘুরিয়ে কি ইউনুসকে চোরই প্রমান করলেন হাসিনা।